জমে থাকা গ্যাসে বড় বিপদ

জিন্নাতুন নূর

আবাসিকের গ্যাসের লাইন ও গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজে জমে থাকা গ্যাসে বিপদ বাড়ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গ্রাহকের অসচেতনতার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। ঠিকমতো রেগুলেটর না লাগানো, চুলা ও লাইনের ত্রুটির কারণে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। নিভছে বহু প্রাণ, আগুনে ঝলসে যাচ্ছে অনেক দেহ। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে বাসাবাড়ির জানালা-দরজা বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে। এতে গ্যাস লিকেজ হলেই ঘটে বড় দুর্ঘটনা। আবার মানসম্মত গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার না হওয়ায় এবং এসব সিলিন্ডারের হাইড্রোলিক প্রেশার পরীক্ষা না করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। রাজধানীর বহু আবাসিক এলাকায় মানহীন সিলিন্ডার পরীক্ষা না করেই অবৈধভাবে গোডাউনে মজুত করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের সর্বশেষ তথ্যমতে ২০২৫ সালে শুধু গ্যাস সরবরাহ লাইন লিকেজ থেকে ৫৬২ এবং গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে ১২১টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এর মধ্যে বাসাবাড়িতে বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হয় ২৬৭ জন এবং নিহত হয় ৮৫ জন।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় মঙ্গলবার রাতে সাহরি খাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রান্নাঘরে সিলিন্ডার গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়। এর আগে চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহরের একটি ভবনে গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নয়জন দগ্ধ হয়। এ ঘটনায় এরই মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গ্যাসের লাইনের চুলার লিকেজ থেকে রান্নাঘরে গ্যাস জমে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লক্ষ্মীপুর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের কামারহাট বাজারে মঙ্গলবার এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আট দোকান পুড়ে ছাই হয়। এ ছাড়া ২৪ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার একটি বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী, শিশুসহ এক পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়। অর্থাৎ এ ধরনের দুর্ঘটনা এখন প্রায়ই ঘটছে। গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার ব্যবহারে তাদের ধারণার অভাবেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘গ্যাস থেকে সৃষ্ট দুর্ঘটনার জন্য বিভিন্ন রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ জড়িত। এ ক্ষেত্রে কোনো অব্যবস্থাপনায় তাদের কড়াকড়িভাবে তদারকি করা প্রয়োজন। গ্রাহক হিসেবে একজনকে গ্যাসের রেগুলেটর, হোসপাইপ এগুলো ঠিক আছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখা উচিত। রান্নাঘরে গ্রাহকের বাতাস চলাচলের বিষয়টি তদারকি করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা গ্যাস সিলিন্ডার বিপণন করছেন তাদেরও নিয়মিত সিলিন্ডার পরীক্ষা করা উচিত। আবার যেখানে সিলিন্ডার পরিবহন করা হচ্ছে, তা যথাযথভাবে হচ্ছে কি না তা তদারকির দায়িত্ব বিস্ফোরক পরিদপ্তরের। দেশের আবাসিক এলাকাগুলোতে অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করার অনেক গোডাউন আছে। যদি পরীক্ষা ছাড়াই এগুলো বিপণন করা হয় তাহলে সামনে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি আছে। দুর্ঘটনা রোধে বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পুলিশ, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিসের মতো সংস্থাগুলোকে এক জায়গায় করে যৌথ কমিটির মাধ্যমে এলাকায় এলাকায় তদারকি করতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights