যুক্তরাষ্ট্রে সংঘবদ্ধ স্ক্যাম চক্রের সদস্য বাংলাদেশি যুবক গ্রেফতার

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
করোনা মহামারির সময় থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুয়া পরিচয়ে ফোন করে সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ এক স্ক্যাম চক্রের সদস্য বাংলাদেশি নাগরিক নিয়ামত উল্লাহ (৩১) গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের Buffalo শহরে বসবাস করছিলেন এবং তার বাড়ি চাঁদপুর জেলায়।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি West Virginia অঙ্গরাজ্যের আপশোর কাউন্টিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে সমন্বয় করেন আপশোর কাউন্টি শেরিফ মাইকেল কোফম্যান। এতে সহায়তা করে স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের তদন্তকারীরা। মার্কিন গণমাধ্যমে ২৭ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারণ দীর্ঘ ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কার্যক্রম চললেও এতদিন তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা ছিল- চক্রটি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসে এই অপরাধ পরিচালনা করছে।

তদন্তে জানা যায়- অভিযুক্তরা নিজেদের Norton Antivirus-এর প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের ফোন করত। তারা দাবি করত, ভুক্তভোগীরা অনুপযুক্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন এবং এর ফলে আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আদায় করা হতো। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় একটি ব্যাংক থেকে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি নিয়ন্ত্রিত অর্থ হস্তান্তর অভিযান পরিচালনা করে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ গ্রহণ করতে এলে ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার দিকে নিয়ামত উল্লাহকে হাতেনাতে আটক করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার ব্যবহৃত গাড়ি থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ, স্বর্ণমুদ্রা এবং একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় তিনি কোনো ধরনের প্রতিরোধ করেননি।

নিয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে টাইগার্ট ভ্যালি আঞ্চলিক কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালত তার জামিন মঞ্জুর করলেও সাড়ে ৬ লাখ ডলারের নগদ বন্ডের শর্তে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ড পরিশোধের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আপশোর কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান। এ ঘটনায় এফবিআই, স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তদন্ত করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights