যুদ্ধের পৃথিবীতে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

পৃথিবীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ২৮ জুলাই ১৯১৪ সালে; অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির উত্তরাধিকার যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রাঞ্চ ফার্ডিন্যান্ডের হত্যাকাণ্ড কেন্দ্র করে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রাজধানী সারায়েভো শহরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য। যুদ্ধ চলে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে। প্রথমে জার্মানি পোল্যান্ডে আক্রমণ করে। এর কিছুদিন পরই যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। যুদ্ধ চলে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত। ওই যুদ্ধে বিশ্বের প্রায় সব শক্তিশালী দেশ জড়িয়ে পড়ে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীতে শান্তি ফেরানোর জন্য গঠন করা হয় লিগ অব নেশনস। যার লক্ষ্য ছিল বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। কিন্তু তাতে শান্তি ফিরে আসেনি। বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন বিশ্বশান্তির জন্য নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, মানবাধিকার সুরক্ষা, উন্নয়ন সহযোগিতাই ছিল জাতিসংঘের উদ্দেশ্য। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এর সদর দপ্তর। প্রতিষ্ঠালগ্নে ৫১টি দেশ এর সদস্য ছিল, বর্তমানে সদস্যসংখ্যা ১৯৩। বিশ্বশান্তির জন্য জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হলেও শান্তিই প্রতিষ্ঠিত হলো না। জাতিসংঘ ছাড়াও অঞ্চলভিত্তিক আরও অনেক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সবকটিরই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু পৃথিবীতে অনেক কিছুই হচ্ছে, শুধু শান্তিটাই থাকছে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে অনেক যুদ্ধ হয়েছে। যুদ্ধে বেশ কিছু সমৃদ্ধ দেশ প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। নতুন করে শুরু হয়েছে ইরান যুদ্ধ। এ যুদ্ধ গোটা পৃথিবীকে ভাবিয়ে তুলছে। শেষ পর্যন্ত এ যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ববাসী আতঙ্কিত হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য বলতে সাধারণত পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার কিছু দেশকে বোঝানো হয়। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান, ইয়েমেন, বাহরাইন, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, ইরান, তুরস্ক ও মিসর। অনেক সময় মিসরকে উত্তর আফ্রিকার দেশ বললেও মধ্যপ্রাচ্যের অংশ হিসেবে ধরা হয়। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ হিসেবে ধরা হয়। তুরস্ক আংশিক ইউরোপ ও এশিয়ায় অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ মধ্যপ্রাচ্য ঘিরেই অনেক যুদ্ধ হলো। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বহু দেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মন্‌জুরুল ইসলামদীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ ও বিদেশি হস্তক্ষেপে অবকাঠামো, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। এসব যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলো। ইরান-ইরাক যুদ্ধ হয় ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত। এরপর ১৯৯১ সালে শুরু হয় উপসাগরীয় যুদ্ধ। ২০০৩ সালে ইরাক যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ আগ্রাসনের কবলে পড়ে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলে লেবানন যুদ্ধ। এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেশটিতে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। ২০১১ সালে শুরু হয় সিরিয়ায় যুদ্ধ। এ যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এটি এখনো চলছে। ২০১৪ সালে শুরু হয় ইয়েমেনের যুদ্ধ। এ যুদ্ধেও ইয়েমেনের ভিতরে গৃহযুদ্ধের জন্ম হয়, যা এখনো চলমান। ২০১১ সালে লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির সরকারের পতন ঘটে। ওই অভ্যুত্থানের পর গোটা লিবিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে গৃহযুদ্ধ। আফগানিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ না হলেও ১৯৭৯ সালে এ দেশটির ওপর সোভিয়েত আগ্রাসন নেমে আসে। তারপর ২০০১ সাল থেকে গৃহযুদ্ধ ও তালেবান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ চলে ২০২১ সাল পর্যন্ত। এখনো আফগানিস্তানে যুদ্ধ চলছে। এসব যুদ্ধের মধ্যে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতপূর্ণ ছিল। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শরণার্থীসংকট তৈরি হয় সিরিয়ার যুদ্ধে। অনেক বেশি মানবিক সংকট তৈরি হয় ইয়েমেন যুদ্ধে। রাজনৈতিক সংঘাত, বিভাজন তৈরি হয় লিবিয়া ও লেবানন যুদ্ধে। এসব যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়। যেসব দেশ তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদনির্ভর ছিল, সেগুলোর অর্থনৈতিক পতন হয়। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়তে থাকে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিভাজন ও সংঘাত। তবে সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো, এ অঞ্চলের সব যুদ্ধেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অংশগ্রহণ আছে। ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করে। উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাক কুয়েত দখল করলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক জোট ইরাকের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে ৯/১১-এ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম যুদ্ধ। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সরকারবিরোধী কিছু গোষ্ঠী ও পরে আইএসবিরোধী অভিযানে অংশ নেয়। ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে গোয়েন্দা ও সামরিক সহায়তা দেয়। লেবাননের রাজনৈতিক অস্থিরতায় যুক্তরাষ্ট্র সেনা পাঠায়। ইরান-ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধ করেনি। তবে কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তার মাধ্যমে পরোক্ষ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া লিবিয়া, সিরিয়া ও ইরানে বিভিন্ন সময় বিমান হামলা ও সামরিক অভিযানেও যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এসব যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ একসময় অর্থনীতিতে যথেষ্ট সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধ ছিল। তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ছিল। সেই দেশগুলো এখন জাতিসংঘের সহায়তায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে। বিপুল জনগোষ্ঠী এখন গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। গত চার দশকে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জর্জরিত হয়। ফলে রাষ্ট্রীয় কাঠামো, অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে গভীর সংকটে পড়ে। এসব দেশের অবস্থা খুবই মানবেতর ও অমানবিক। এসব যুদ্ধ কেবল সীমান্ত বদলায়নি; প্রজন্মের ভবিষ্যৎও বদলে দিয়েছে।

অনেক দিনের পরিকল্পনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এ হামলার মাধ্যমে দুই বন্ধুদেশের অন্যতম প্রধান টার্গেট ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হয়। এখন ইরানকে কেন্দ্র করে চারদিকে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে আশপাশের সব মুসলিম দেশে ঘাঁটি নির্মাণ করেছিল। সেসব মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান হামলা করার কারণে ওইসব মুসলিম দেশ এখন ইরানের প্রতিপক্ষ হয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অত্যন্ত সুচতুরভাবে কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে। ইরানের পক্ষ নিয়ে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। অন্যদিকে ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হামলায় অংশ নিচ্ছে জার্মানি। এ ছাড়া যুদ্ধে জড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি, ফিলিস্তিনের হামাস ও ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো। ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় কুয়েতের মার্কিন দূতাবাস ও আশপাশ এলাকায় উপর্যুপরি আঘাত করা হয়েছে। কাতারের রাজধানী দোহা, বাহরাইন ও দুবাইয়ে ড্রোন হামলা হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থাগুলোর খবরে জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে অভিযান চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।

ইরান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বড় রকমের বিপদের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এ যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বেশি সমস্যায় পড়বে। আমাদের দেশের সমস্যা হবে নানামুখী। একটি অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেওয়ার পর নতুন সরকার কেবলই ক্ষমতায় এসেছে। ১২ দিনের বর্তমান সরকার এখনো সবকিছু গুছিয়ে নিতে পারেনি। মন্ত্রীরা, সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখনো ঠিকমতো দায়িত্ব-কর্তব্য বুঝে নিতেই পারেননি। এমন একসময়ে ভয়াবহ বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক চাপে পড়তে যাচ্ছে সরকার। এমনিতেই বিগত সরকারের নানান অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে সরকার অনেকটা বিচলিত। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের সহকর্মীদের বিরুদ্ধেও প্রায় প্রতিদিন গণমাধ্যমে যে ধরনের দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে সরকার অনেকটাই বিব্রত। এ যুদ্ধ চলমান থাকলে নতুন সরকারকে জ্বালানি, রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে গার্মেন্ট ও প্রবাসীদের নিয়ে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। আমদানি করা পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এলএনজির দাম বেড়ে যাবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাঁচামালের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হবে। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের প্রায় ১ কোটি প্রবাসী আছেন। ইতোমধ্যে তাদের অনেকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। প্রবাসীরা যদি কর্মহীন হয়ে পড়েন, তাহলে রেমিট্যান্স কমে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার নষ্ট হবে। বর্তমান অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সরকারের জন্য এটা হবে বড় ধরনের চাপ। এশিয়া ও ইউরোপ এবং আংশিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানোর প্রধান নৌপথ সুয়েজ খাল ইরানের খুব কাছাকাছি। সেখানে এ যুদ্ধের প্রভাব পড়লে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হবে। ভিন্ন পথে পণ্য পাঠাতে হলে যে পরিমাণ খরচ বাড়বে, তাতে দেশের রপ্তানিকারকরা মোটা অঙ্কে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যুদ্ধের কারণে ভোক্তাদের সক্ষমতাও কমে যাবে। ফলে তারা পোশাকের মতো পণ্যে কম ব্যয় করবেন। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে দেশের বাজারে উৎপাদন খরচ বাড়বে। কারণ বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর। যুদ্ধ যদি দীর্ঘমেয়াদি হয় তাহলে কুয়েত, ইরাক, ইরান, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য রপ্তানি বাজারগুলো মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ইরানের প্রায় ৬৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজারে প্রায় ১০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। যার বেশির ভাগ পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য। যুদ্ধের কারণে হয়তো এ বাজার আর থাকবে না।

জাতি হিসেবে আমরা সত্যি গর্বিত। রক্তের বিনিময়ে ভাষা রক্ষা করেছি। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের পিছু ছাড়ছে না। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আমরা সবদিক থেকে ঝুঁকিমুক্ত হতে পারলাম না। সভ্যও হতে পারলাম না। আমাদের কাছাকাছি সময়ে ভিয়েতনাম স্বাধীন হয়েছে। তাদের দেশের মানুষের নীতি-নৈতিকতা, সততা, দেশপ্রেম আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে আমাদের অনেক রক্ত ঝরাতে হয়েছে। অনেক স্বপ্নে, অনেক প্রত্যাশার নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এরই মধ্যে নতুন সরকারকে যুদ্ধের মতো সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সে কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদের যথাযথ জোগান ও ব্যবহার নিশ্চিত করা, জ্বালানি, খাদ্যপণ্যের বিকল্প উৎস এবং বিকল্প শ্রমবাজারের সন্ধান করা এখন সময়ে দাবি।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

manju209@yahoo.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights