জ্বালানি তেলের সংকট বেশি এশিয়ায়

অনলাইন ডেস্ক
এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি তেল ও গ্যাসের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ৬০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিয়ে থাকে এশিয়ার দেশগুলো। প্রতি চার ব্যারেল ক্রুড তেলের মধ্যে এক ব্যারেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই তেল আমদানি করা হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে।

শিপিং অ্যানলিটিক্স কম্পানি কেপলারের দেওয়া তথ্য মতে, এশীয়া থেকে প্রতিদিন ২৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল কেনা হয়। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, এই তেলের মধ্যে ১৪.৭৪ মিলিয়ন ব্যারেল কেনা হয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এশিয়ার দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি তেল রপ্তানি করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাক। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।

জাপান তাদের চাহিদার ৯৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়া তাদের চাহিদার ৭০ শতাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে থাকে। গত ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরও তেল আমদানির পরিমাণ ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ চীন। দেশটি দিনেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে ৫.৪ ব্যারেল।

এ ছাড়া তারা রাশিয়া ও কানাডা থেকে তেল নিয়ে থাকে। নিজ দেশে উৎপাদন করে চার মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি। তেল আমদানির ক্ষেত্রে কোনো দেশ থেকেই তারা ২০ শতাংশের বেশি নেয় না। উত্তর এশিয়ার দেশগুলোতে জাহাজে করে তেল পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতে তেল আসতে সময় লাগে এক সপ্তাহের কম।

ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় এশিয়ার দেশগুলোতে তেলের সংকট নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ড তেলের দাম নির্ধারণ করে দেবে বলে জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং বলেন, পেট্রলের দাম নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। ইরান যুদ্ধ তাদের দেশের অর্থনীতির ওপর বিশাল বোঝা তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল তেল মজুদ না করতে সাধারণ মানুষকে আহবান জানান।

এর পাশাপাশি আগামী ১৫ দিনের জন্য তেলের দাম বেঁধে দেওয়ার ঘোষণা দেন। গত কয়েক দিন ধরেই দেশটির পেট্রল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। অনেক পাম্পে চাহিদার তুলনায় সরবরাহও কম। ভিয়েতনামের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাময়িকভাবে জ্বালানি পণ্যের ওপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফিলিপিন্সেও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সংঘাত চলতে থাকলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে: এক বছরে তেলের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ০.৪ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ০.১-০.২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে পূর্বাভাস দিয়েছেন আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। গত সোমবার জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা জানান। তিনি আরো বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া নতুন সংঘাত দীর্ঘদিন চললে স্পষ্টতই বাজারে প্রভাব পড়বে। সূত্র : ডন, বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights