রাস্তায় বের হলেই ছিনতাই ভয়
পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ শহর হিসেবে সিলেটের একটি সুনাম আছে। আর এ কারণের বছরজুড়ে পর্যটকদের আনাগোনায় ব্যস্ত থাকে এই নগরী। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন ছন্দপতন ঘটেছে নগরটিতে। নগরজুড়ে এখন বিরাজ করছে ছিনতাই আতঙ্ক। রাস্তায় রেরোলেই ভয় কাজ করে সবার। প্রায় প্রতিদিনই একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। দিনদুপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে তারা ছিনতাই করছে। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা দেখেও কোনো প্রতিকার করছে না। এমনকি সিসিটিভি ক্যামেরায় ছিনতাইয়ের দৃশ্য ও ছিনতাইকারীদের চেহারা স্পষ্ট ধরা পড়লেও পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না জড়িতদের।
আলোচিত দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটজনের চেহারা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়লেও এখন পর্যন্ত ধরা পড়েছে মাত্র একজন ছিনতাইকারী। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে সিলেটের দুই মন্ত্রীও পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। পুলিশ বলছে, আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। সবাই ধরা পড়বে। এ ছাড়া নগরবাসীর ঈদের কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নগরীর হাউজিং এস্টেটে সিএনজি অটোরিকশার গতিরোধ করে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে এক নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় ছয় ছিনতাইকারী। ছিনতাইয়ের এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হলে নগরজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ফুটেজ দেখে সব ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র একজন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে পুলিশ। হাউজিং এস্টেটে ছিনতাইয়ের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে গত ৫ মার্চ দিনদুপুরে নগরীর সাগরদিঘীরপাড় এলাকায় আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে দুই ছিনতাইকারী এসে এক তরুণীকে গতিরোধ করে সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও পরনের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তরুণী ব্যাগ ও স্বর্ণালংকার দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে ধারালো অস্ত্রের উলটো দিক দিয়ে কয়েকবার আঘাত করা হয়। পুলিশের দাবি, ছিনতাইয়ের চেষ্টা হলেও ওই তরুণীর কাছ থেকে কিছু নিয়ে যেতে পারেনি ছিনতাইকারীরা। আলোচিত এ দুই ঘটনা ছাড়াও সিলেট নগরীতে প্রায়ই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। ফেসবুকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ভাইরাল না হলে সেগুলো থেকে যাচ্ছে আড়ালে। হঠাৎ করে নগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিঘ্ন হয়ে পড়েছেন নগরবাসী।
এদিকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সিলেটের দুই মন্ত্রী। সম্প্রতি সিলেট সফরে এসে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যারা অবনতি ঘটাচ্ছে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সিলেটে এসব কর্মকান্ড বরদাশত করা হবে না। আমরা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি, ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে।’
এর আগে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশকে (এসএমপি) কঠোর নির্দেশ দেন। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট নগরীতে বেড়েছে পুলিশের তল্লাশি। গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে পুলিশ মোটরসাইকেল ও গাড়ি তল্লাশি করছে। বিশেষ অভিযানে মাঝেমধ্যে ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং সদস্যরা ধরা পড়ছে। কিন্তু এরপরও থামছে না অপরাধ কর্মকান্ড। এ প্রসঙ্গে এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, হাউজিং এস্টেট ও সাগরদিঘীরপাড়ের ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা পেশাদার অপরাধী। এদের বিরুদ্ধে আগেও চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা রয়েছে। শিগগির সব ছিনতাইকারী ধরা পড়বে। ঈদকে সামনে রেখে নগরবাসীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবছরই ঈদকে সামনে রেখে চুরি-ছিনতাই বাড়ে। তুলনামূলকভাবে এবার এরকম অপরাধ কর্মকান্ড কম হচ্ছে। নগরবাসীর নিরাপত্তায় নগরীতে পুলিশের ৬০টি মোবাইল টিম ও ছয়টি স্ট্রাইকিং টিম কাজ করছে।
