২০১১ সালের ১ জানুয়ারি একটি দৈনিক পত্রিকায় ছোট প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যা অনেকেরই হয়তো দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক খুনাখুনির ঘটনা উদ্বেগজনক : চিদাম্বরম’। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, “ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্যকে সম্প্রতি লিখিত এক চিঠিতে বলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক খুনের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজ্যের অনেক স্থানে আইনশৃঙ্খলা বলে যে কিছু নেই তা এসব খুনোখুনির ঘটনায় প্রমাণিত। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন- দলীয় ক্যাডাররাই যদি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব হাতে তুলে নেয়, তাহলে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা কী?” এ প্রতিবেদনটি প্রণিধানযোগ্য এবং এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, কারণ বাংলাদেশে আমরাও সেই পথে যাচ্ছি।

বহুদিন থেকেই আমাদের দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কিন্তু পশ্চিম বাংলার পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী আনিসুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে ৪ আগস্ট ২০১০ তারিখে আমাদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রথম দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা দেন। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ ব্যবস্থা অব্যাহত ছিল। তবে গত দেড় দশকের অভিজ্ঞতার আলোকে এটি সুস্পষ্ট যে, সিদ্ধান্তটি ছিল আত্মঘাতী।

আমাদের কিছু কিছু রাজনীতিবিদ নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিপক্ষে, কারণ তাঁরা মনে করেন, দলনিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা হবে অরাজনৈতিক বা রাজনীতি বিবর্জিত। তাঁদের কাছে রাজনীতি মানেই দল- দল ছাড়া তারা রাজনীতির কথা ভাবতেই পারেন না, ফলে দলীয় পরিচয়ের বাইরের নির্বাচনকে তারা ‘বিরাজনীতিকীকরণ’ বলে আখ্যায়িত করেন। কিন্তু ‘নির্দলীয়’ আর ‘অরাজনৈতিক’ শব্দ দুটি সমার্থক নয়। বস্তুত, নির্বাচনই একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, যা দলভিত্তিক হতে পারে, কিংবা নির্দলীয়ও হতে পারে। এ ছাড়াও দলনিরপেক্ষ হলেও দলের নেতা-কর্মীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা থাকে না, তাই নির্দলীয় নির্বাচনকে বিরাজনীতিকীকরণ প্রক্রিয়া বলা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক দলের মনোনয়নের ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচন না করার কারণে বিরাজনীতিকীকরণের অভিযোগ তুললেও, বস্তুতপক্ষে আমাদের দেশে বিরাজনীতিকীকরণ হয়েছে মূলত ‘মনোনয়ন বাণিজ্যে’র ফলে। অর্থ নিয়ে কিংবা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে অতীতে আমাদের দেশে মনোনয়ন, বিশেষত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন ‘বিক্রি’ হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদরা মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে আমাদের সংসদ হয়ে পড়েছে অনেকটা কোটিপতি ব্যবসায়ীদের প্রাইভেট ক্লাবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার পক্ষে একাধিক শক্ত যুক্তি রয়েছে। প্রথমত, এর মাধ্যমে ভোটারদের ‘চয়েস’ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিধি বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সমাজসেবী আছেন, যারা কোনো দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন বা যুক্ত হতে চান না, যদিও এ ধরনের ব্যক্তির সংখ্যা সমাজে দিন দিন কমে যাচ্ছে। বস্তুত, সমাজে মানুষ ক্রমবর্ধমান হারে দলীয়ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ছে এবং তাদের মধ্যে দিন দিন হানাহানি বাড়ছে। তবে আমাদের মধ্যে এখনো এমন ব্যক্তি আছেন যারা অত্যন্ত যোগ্য, সম্মানিত এবং স্থানীয় মানুষের আস্থাভাজন। দলীয়ভিত্তিতে নির্বাচন হলে এসব ব্যক্তির নির্বাচিত হয়ে আসার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে, ফলে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, যার মাধ্যমে নিঃসন্দেহে জনকল্যাণ ব্যাহত হয়।

নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পক্ষে আরেকটি যুক্তি হলো, এর মাধ্যমে দলবাজির সর্বনাশা প্রভাব তৃণমূলে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা সম্ভব। রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দলবাজি সম্পূর্ণই অনাকাক্সিক্ষত। বস্তুত, রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি এবং দল ছাড়া গণতন্ত্র কার্যকর হতে পারে না। কিন্তু দলবাজি প্রতিফলিত হয় দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য, দলাদলি, দলীয়করণ ও দলীয় বিবেচনায় সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা সুযোগ-সুবিধা বিতরণ, যার বিরূপ প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক। পশ্চিম বাংলার ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি এবং সিপিএম এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাডারদের মধ্যে অতীতের মারামারি এবং বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির কর্মীদের মধ্যে হানাহানি বহুলাংশে দলভিত্তিক স্থানীয় নির্বাচনেরই বিষফল বলে অনেক পর্যবেক্ষকের ধারণা। আমরাও ক্রমাগতভাবেই সেদিকেই যাচ্ছি।

দুর্ভাগ্যবশত দলবাজি ইতোমধ্যে আমাদের গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। ফলে নব্বইয়ের শুরুতে একতাবদ্ধ হলেও, আমরা আজ চরমভাবে একটি বিভক্ত জাতি, যার কারণ অতিরাজনীতিকরণ। আর এই বিভক্তি এবং পারস্পরিক হানাহানি জাতি হিসেবে আমাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে। কারণ ইতিহাসের শিক্ষা হলো, যে জাতি যত ঐক্যবদ্ধ, তারা তত উন্নত ও সমৃদ্ধ।

দলভিত্তিক নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যেই নয়, দলের অভ্যন্তরেও কোন্দল সৃষ্টি করতে পারে, যার ভবিষ্যৎ পরিণতি অশুভ না হয়ে পারে না। এ দলাদলি অহেতুক, কারণ দল মনোনয়ন প্রদান থেকে বিরত থাকলে, দলের মধ্যকার সর্বাধিক জনপ্রিয় ব্যক্তি নির্বাচিত হয়ে আসার সুযোগ পেত। এতে দল কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। পক্ষান্তরে দলভিত্তিক নির্বাচনের এ আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমানে দলের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি দেখা যায়, যার পরিণতি সহিংসতা। এর ফলে আমাদের দলগুলোর অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান হারে সহিংসতা বাড়ছে।

দলভিত্তিক নির্বাচনের মাশুল সাধারণ নাগরিকদেরও গুনতে হয়। আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, যে সব এলাকায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ছিলেন, সে সব এলাকায়ই বেশি সরকারি বরাদ্দ ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছিল। কোনো কোনো এলাকা এবং জেলার প্রতি পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। নিঃসন্দেহে এ ব্যবস্থা ন্যায়পরায়ণতার পরিপন্থি এবং সাধারণ মানুষ এর শিকার। এটা অবশ্য দলবাজির সমস্যা, দলের নয়। তাই দলভিত্তিক স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে যে সব এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে নেই, দলবাজির সংস্কৃতির কারণে সে সব এলাকা কেন্দ্রীয় সম্পদ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমাদের কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থায় অধিকাংশ সম্পদই কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে এবং সম্পদ বিতরণ করা হয় অনেকটা অনুগ্রহ প্রদানের অংশ হিসেবে।

দলভিত্তিক নির্বাচনের অভিজ্ঞতার নেতিবাচক দিক সম্পর্কে পশ্চিম বাংলার মন্ত্রী আনিসুর রহমান নিজে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনয়নে সব কিছু দলীকরণ করার মানসিকতা জন্মায়। ফলে গ্রাম পর্যায়ে জনগণ তাদের ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় (একটি দৈনিক পত্রিকা, ৫ আগস্ট ২০১০)। এমনিতেই সব কিছুতে আমাদের দেশে দলীয়করণ চরম, যার ফলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক ও নির্দলীয় ব্যক্তিরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে, যাদের শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষক নেই, তারাও বিভিন্ন ফায়দা থেকে বঞ্চিত হয়। দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে এ বঞ্চনা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছবে এবং তা আরও ব্যাপকতা লাভ করবে বলে আমাদের আশঙ্কা।

গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সুসংহত করার ক্ষেত্রেও নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্দলীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় ভিত্তিতে একক প্রার্থী মনোনীত করা হয় না বলে, নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ভোটারদের অনেক বেশি ‘চয়েস’ থাকে- তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৃত্ত প্রসারিত হয়। ফলে তাদের পক্ষে ভালো প্রার্থী খুঁজে পাওয়ার বেশি সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গুণগতমানে পরিবর্তন সাধনে সহায়তা করে। আর সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিরা নির্বাচিত হলেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়। অপেক্ষাকৃত যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোও আরও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।

দলভিত্তিক স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে যুক্তি হলো যে, এর মাধ্যমে দলীয় নীতি-আদর্শ বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়। এটি অনেকটা খোঁড়া যুক্তি, কারণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করা, দল বিশেষের নয়। এছাড়াও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণে তেমন ভূমিকা রাখেন না, ফলে তাদের পক্ষে দলীয় নীতি-আদর্শ বাস্তবায়নের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। উপরন্তু সাম্প্রতিককালের আমাদের রাজনৈতিক দলে নীতি-আদর্শ অনেকটা সেøাগানে পর্যবসিত হয়েছে এবং প্রধান দলগুলো বহুলাংশে ফায়দাবাজি এবং ব্যক্তি ও কোটারি স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হয়ে গিয়েছে।

দলভিত্তিক নির্বাচনের পক্ষে আরেকটি যুক্তি হলো, এর ফলে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও দলীয় শৃঙ্খলার অধীনে আসে। ফলে তাদের পক্ষে অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাস্তবতা তার উল্টো। আমাদের সমাজে অধিকাংশ অন্যায় ও গর্হিত কাজই পরিচালিত হয় সরাসরি দলের ছত্রছায়ায় অথবা দলীয় সমর্থনে। বস্তুত, দলের বিশেষত সরকারি দলের সমর্থন ছাড়া কেউ অপরাধ করে পার পায় না। এ ছাড়াও আমাদের দেশে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক দলীয় অনুশাসনের প্রয়োগ অনুপস্থিত বললেই চলে।

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে দলের সংস্কার হবে অত্যন্ত জরুরি। দল নীতি-আদর্শ দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রদান করতে হবে। ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’ পরিহার করতে হবে। বর্জন করতে হবে ছলে-বলে-কলে-কৌশলে – ন্যায়-অন্যায়ের বাছবিচার না করে – যারা নির্বাচনে জিততে পারবে তাদের মনোনয়ন দেওয়া থেকে।

এ ছাড়াও দলভিত্তিক নির্বাচন করতে হলে এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হবে। যেমন- কীভাবে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে সে প্রক্রিয়া আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, জাতীয় নির্বাচন দলভিত্তিক অনুষ্ঠিত হয়, আর তা পরিচালনার জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইন রয়েছে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, অতীতে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে মনোনয়ন দিয়ে আসছে তা পরিহার না করলে দলভিত্তিক নির্বাচন আমাদের জন্য আবারও বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি সুস্পষ্ট, আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচন যৌক্তিক নয়। বস্তুত, নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে। কিন্তু আমরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছি, কারণ আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো সে ধরনের আচরণ করেনি এবং এসব নির্বাচনকে নির্দলীয় রাখেনি। আচরণবিধিতে নির্দলীয় নির্বাচনের কথা থাকলেও তারা অনেক ক্ষেত্রে অন্তত পরোক্ষভাবে দলীয় মনোনয়ন অথবা সমর্থন প্রদান করেছে। আশা করি, অতীতের দলভিত্তিক নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সম্পর্কে আবারও গভীরভাবে ভেবে দেখবেন। আর যদি দলীয়ভিত্তিতে নির্বাচন হতেই হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও সত্যিকারের জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক দল গড়ে তুলতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন হবে রাজনৈতিক দলের ব্যাপক সংস্কার। তা না হলে আমাদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো, বিশেষত দলবাজি, পক্ষপাতিত্ব ও সহিংসতার সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

লেখক : প্রধান নির্বাহী, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights