ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪০০ খাল পুনরুদ্ধার করা হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, দেশে হাজার হাজার খাল আছে, সেই খালগুলো খনন করা হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মধ্যে ৪০০ খাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই খালগুলোকে আমরা পুনরুদ্ধার করতে চাই, সজীব করতে চাই। খাল খননের মাধ্যমে উৎপাদন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির যে অর্থনৈতিক দিশা, একইসঙ্গে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করা—এই দুইয়ের সংমিশ্রণের মধ্য দিয়ে পুরো উন্নতিটাকে দেখার সরকারের যে দৃষ্টিভঙ্গি, সেটাই কার্যকর করার একটি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বোয়ালিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, নদী-নালা, খাল-বিল আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যও অত্যাবশ্যকীয়। যারা নদী-নালাকে দখল করছে, দূষণ করছে—এগুলো দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে, দখলমুক্ত করতে হবে। এগুলোকে সজীব করে তুলতে হবে, যাতে করে আমাদের জীবনটাও সজীব হয়ে ওঠে, অর্থনীতিও সজীব হয়ে ওঠে।

বোয়ালিয়া খালটির দৈর্ঘ্য ৬ কিলোমিটার। খালটি দুদিকেই তিতাস নদীতে মিশেছে। ইতঃপূর্বে খালের ৪ কিলোমিটার খনন করা হয়। সোমবার খালের বাকি ২ কিলোমিটার ও আরেকটি শাখা খালের ১ দশমিক ৮০ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩১ লাখ টাকা। পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী আজম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীন প্রমুখ।

বিএডিসি সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি ও সেচ কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ জনগণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে। ফলে খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights