ফাঁকা বন্দরনগর

ইমরান এমি, চট্টগ্রাম

সরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা বন্ধ। কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে আজ থেকে। ঈদও চলে এসেছে দোরগোড়ায়। এখন নীড়ে ফেরার পালা। ফলে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এবং বাসস্ট্যান্ডে গিজগিজ করছে মানুষ। প্ল্যাটফর্মে পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা। তবে সেই অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হচ্ছে না। বিগত সময়ে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটলেও এখনো চট্টগ্রামে শিডিউল বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে স্বস্তি নিয়ে ট্রেনে বাড়ি ফিরছে মানুষ। পাশাপাশি বাস কাউন্টারগুলোতেও ধীরে ধীরে বাড়ছে ভিড়। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার কারণে ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে শুরু করেছে বন্দরনগর চট্টগ্রাম। বিভাগীয় পুলিশ সুত্র জানায়, চট্টগ্রামে লোক সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। ধারণা করা হচ্ছে ইতিমধ্যে অর্ধেক বা প্রায় ৩০ লাখ লোক ঈদ করতে চট্টগ্রাম ছেড়েছেন। ফলে অনেকটাই ফাঁকা বন্দর নগরী।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, ‘ঈদযাত্রায় এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক। পঞ্চম দিনে ট্রেনে যাত্রীভিড় বেড়েছে। আজ থেকে এ চাপ আরও বাড়বে। প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্টেশন ত্যাগ করছে এবং অতিরিক্ত ভিড়ও নেই। ফলে স্বস্তির সঙ্গে ট্রেনযাত্রা করছেন যাত্রীরা। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আনসার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত স্টেশনে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য আরএনবি সজাগ রয়েছে। টিকিট দেখেই প্রবেশ করানো হচ্ছে। টিকিটবিহীন যাত্রীপ্রবেশে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের বিরুদ্ধে আরএনবি কাজ করছে।’

ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ট্রেনই যাত্রীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে স্টেশন ছাড়ছে। তবে যাত্রীচাপ কয়েক গুণ বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হয়নি। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় না হওয়ায় এবং সব কার্যক্রম সুশৃঙ্খল থাকায় স্টেশনে ভিড় থাকলেও যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তির হাওয়া দেখা গেছে। মহানগরের বাকলিয়ায় বসবাস করা শফিকুর রহমান পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা, তিনি বাসের চেয়ে ট্রেনকে প্রাধান্য দিয়েছেন। বলেন, ‘গ্রামে ঈদ করার আনন্দই আলাদা। তাই যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে আগেই বাড়ির পথে রওনা দিয়েছি। ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আগেভাগেই গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি।’ রেল সূত্র জানান, ৩ মার্চ ট্রেনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে ৯ মার্চ পর্যন্ত চলে। ৩ মার্চ যাত্রীদের মাঝে ১৩ মার্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়। ১৩ মার্চই অগ্রিম টিকিটধারী যাত্রীদের পরিবহন শুরু হয়েছে। এদিকে মহানগরের বাস কাউন্টারগুলোতে দেখা গেছে মানুষের ভিড়। অলঙ্কার, এ কে খান ও দামপাড়ার প্রতিটি কাউন্টারেই ছিল টিকিটপ্রত্যাশী ও যাত্রীর দীর্ঘ সারি। তপ্ত রোদে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ক্লান্তি থাকলেও সবার চোখে-মুখে ছিল বাড়ি ফেরার প্রশান্তি। পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত কোনো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না।

নির্ধারিত ভাড়ায় বাস চলাচল করছে। হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম বলেন, ‘মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করে তাতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights