পর্যটক বরণে প্রস্তুত পাহাড়

রাঙামাটি প্রতিনিধি
পাহাড় এখন পর্যটক বরণে প্রস্তুত। প্রকৃতির রূপে সেজেছে অপরূপ। গাছে গাছে হরেক রঙের ফুল। স্নিগ্ধ বাতাসে ভেসে বেড়ানো জঙ্গলি ফুলের গন্ধ, আর দূর থেকে ভেসে আসা কোকিলের ডাক, যেন মন ছুয়ে যায়। আর এসবের মাঝে রাঙামাটিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য পর্যটক কেন্দ্র। এবার ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটবে এ পাহাড়ে। এমন প্রত্যাশায় নতুনভাবে সাজানো হয়েছে হোটেল-মোটেল, ঝুলন্ত সেতু ও পার্ক।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো নেই রাঙামাটি পর্যটন কেন্দ্রের ঝুলন্ত সেতু। রঙে রঙিন সেতুর পাটাতন। সিঁড়িগুলো মেরামত করে রাঙানো হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে ব্যস্ত কর্মচারীরা। হোটেলের এসি ও আইপিএস, জেনারেটর সবকিছু নতুন করে মেরামত করা হয়েছে। কক্ষগুলোকে রাঙানো হয়ে রঙিনভাবে। বালিশের কভার আর বিছানার চাঁদর সবকিছুতে নতুনের কেতন। পর্যটকদের গাড়ি পার্কিংয়ের রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। শুধু রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সে নয়, এমন চিত্র বিরাজ করছে পলওলেয় পার্ক, ডিসি বাংলো পার্ক ও রাঙামাটি পার্কে।

রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ইউনিট ব্যবস্থাপক (উপ-ব্যবস্থাপক) হিসেবে দায়িত্বরত আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণে কোনো প্রস্তুতির কমতি রাখা হয়নি। সবকিছু ঢেলে সাজানো হয়েছে। পর্যটকরা যাতে সুন্দর পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে পারে তার জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এবার পর্যঠকদের কোনো ধরনের অফার কিংবা ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করেনি কর্তৃপক্ষ।

শুধু হোটেল নয়, প্রস্তুত কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণকারী ট্যুরিস্ট বোটগুলো,- বলছেন পর্যটন নৌ-যান ঘাটের ট্যুরিস্ট বোট ব্যবস্থাপক মো. ফকরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের ১০০ ট্যুরিস্ট বোট রয়েছে- সবগুলো মেরামত আর রঙিন করে প্রস্তুত করা হয়েছে। পর্যটক এলে কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণে কোনো সমস্যা হবে না।

অন্যদিকে শূন্য হ্রদ ও পাহাড়ে পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রস্তুত ট্যুরিস্ট পুলিশ। রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুল রকিব বলেন, ঈদকে সামনে রেখে রাঙামাটিতে নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্তের আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights