ইরানে হামলার হুমকি সৌদি আরবের

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা আর সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে সম্মিলিতভাবে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

রিয়াদে আরব রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইরান পরিকল্পিতভাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে, যদিও তেহরান তা অস্বীকার করছে। তিনি বলেন, হামলাগুলো অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পরিচালিত হয়েছে, যা পূর্বপরিকল্পিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

তবে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার সময় ও ধরন প্রকাশ করা ‘বুদ্ধিমানের কাজ হবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যের সীমা আছে, কিন্তু তা অসীম নয়।’

এর আগে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে কাতার-এর রাস লাফান গ্যাস স্থাপনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর হাবশান গ্যাস ফ্যাসিলিটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য সামনে আসে। কাতার সরকার এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আগেই সতর্ক করেছিল যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চলমান এই সংঘাত শেষ হলেও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে দীর্ঘ সময় লাগবে। কারণ, দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, হামলা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights