সম্পর্কের বরফ গলল স্টোকস-ম্যাককালামের
অনলাইন ডেস্ক
দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রধান কোচ হিসেবে বহাল থাকছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ সিরিজে ভরাডুবির পর অধিনায়ক বেন স্টোকসের সাথে তৈরি হওয়া তিক্ততা কাটিয়ে উঠেছেন তিনি।
আগামী সোমবার এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘টেলিগ্রাফ স্পোর্টস’।
অ্যাশেজ চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)-এর পর্যালোচনায় স্টোকস ও ম্যাককালাম একে অপরের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। স্টোকস প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, ইংল্যান্ডের বর্তমান খেলার ধরন বা ‘বাজবল’ কৌশলের উত্তর প্রতিপক্ষ দলগুলো খুঁজে পেয়েছে।
অন্যদিকে, ম্যাককালামের অভিযোগ ছিল যে স্টোকস আক্রমণাত্মক কৌশল ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
চলতি সপ্তাহে ইসিবির পর্যালোচনার পাশাপাশি স্টোকস ও ম্যাককালামের মধ্যে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচিয়ে পুনরায় একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। তবে এই নতুন যাত্রায় কিছু পরিবর্তন আসছে।
ইসিবির পারফরম্যান্স ডিরেক্টর এড বার্নি এখন থেকে কোচিং স্টাফ নির্বাচন এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস বা ‘স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং’-এর বিষয়টি সরাসরি তত্ত্বাবধান করবেন। উল্লেখ্য যে, অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
ব্রেন্ডন ম্যাককালামের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। গুঞ্জন ছিল যে তাকে ছাঁটাই করা হতে পারে, তবে ইসিবি সেই পথে হাঁটেনি। কারণ তাকে বিদায় করতে হলে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হতো, যা বোর্ডের বর্তমান কোচিং কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারত।
কোচের সাথে সম্পর্ক ঠিক হলেও অধিনায়ক বেন স্টোকসের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ নিজের ফর্ম ও ফিটনেস ফিরে পাওয়া। ২০২৭ সালের পরবর্তী অ্যাশেজ যখন ইংল্যান্ডে শুরু হবে, তখন স্টোকসের বয়স হবে ৩৬। গত দুটি পাঁচ টেস্টের সিরিজে তিনি ইনজুরি ছাড়া শেষ করতে পারেননি। এমনকি সিডনি টেস্টের শেষ দিকে কুঁচকির সমস্যার কারণে তিনি বোলিংও করতে পারেননি।
ইংলিশ ক্রিকেটের এই ক্রান্তিলগ্নে স্টোকস-ম্যাককালাম জুটির পুনরায় এক হওয়া ইতিবাচক। এখন দেখার বিষয়, এই সমঝোতা মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা প্রতিফলন ঘটায়।
