সত্যিই কি পাকিস্তানে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?

অনলাইন ডেস্ক

টানা ২৫ দিন ধরে আগুনে জ্বলছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। ওই দিন থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে তেহরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য।

ইরানের পাল্টা হামলায় এরই মধ্যে বেসামাল হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। কেননা, মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে একের পর সফল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও অকার্যকর ইরানের ক্ষেপাণাস্ত্রের কাছে।

এই পরিস্থিতিতে গুঞ্জন উঠেছে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মুখোমুখি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে বৈঠকে বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্ক এবং মিসরও পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে।

যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ‘অবরুদ্ধ’ করে রেখেছে ইরান। যার প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বের বাণিজ্যে। এ অবস্থায় গত শনিবারই ইরানকে ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দেন ট্রাম্প। জানিয়ে দেন, ইরান হরমুজ প্রণালী না খুলে দিলে তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে আমেরিকা। কিন্তু সেই দাবি থেকে সোমবার হঠাৎই ‘পিছু হটেন’ ট্রাম্প। জানান, ইরানের কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগামী পাঁচ দিন হামলা হবে না। ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্বে তা ইতিবাচক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তেহরান অবশ্য ট্রাম্পের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলেছে, এমন কোনও আলোচনাই হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। তবে ইউরোপীয় বিভিন্ন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা হয়নি ঠিকই। তবে ‘পরোক্ষ আলোচনা’ হয়েছে। মিসর, পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে বার্তা চালাচালি করেছে।

এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা এবং ইসরায়েলের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সূত্রে রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে বৈঠকে বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, মার্কিন প্রতিনিধিদলে থাকতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং দুই কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা ইহুদি জারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলে থাকতে পারেন সেদেশের পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ‘দ্য টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উইটকফ ইতোমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। যদিও পাকিস্তানে এই বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে হোয়াইট হাউস সরকারিভাবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কিছু জানায়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’জানিয়েছে, তুরস্ক, মিসর এবং পাকিস্তান গত দু’দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা চালাচালি করে যাচ্ছে। তিন দেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত কয়েক দিনে উইটকফ এবং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’ অনুযায়ী, যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতা করতে চাইছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক ইসলামাবাদে করার জন্য প্রস্তাবও পাকিস্তানই দেয় ট্রাম্প প্রশাসনকে। গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয়েছে পাকিস্তানের সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনিরের। তার পরের দিন, সোমবারই আবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সূত্র: রয়টার্স, ফিনান্সিয়াল টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights