মানব পাচারে সীমান্তে ডবল নেটওয়ার্ক

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট
সিলেট সীমান্তের এপার-ওপারে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মানব পাচার নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিদিন নারী-পুরুষ ও শিশুদের দুই দেশেই ভারতে পাচার করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির অনেক নেতা-কর্মী এই সীমান্ত দিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন ভারতে। আর সীমান্তে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক আটকের পর আলোচনায় আসে মানব পাচারের এই নেটওয়ার্ক। এরপর সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে কিছুদিন ওই চক্র কিছুটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও ফের বেড়েছে তাদের তৎপরতা। ঈদের ছুটিতে সীমান্তে বাংলাদেশি ২২ নাগরিক আটকের পর আবারও আলোচনায় এসেছে মানব পাচারের এই নেটওয়ার্ক। ইতোমধ্যে র‌্যাব ও পুলিশ পাচারকারী চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তারও করেছে। কাজের লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে নারীদের ভারতে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট সীমান্তের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট সীমান্ত ঘিরে বেশ কয়েকটি পাচারকারী চক্র রয়েছে। চোরাকারবারের পাশাপাশি ওই চক্রটি মানব পাচারও করে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসা নারীদের টার্গেট করে ওই চক্রের সদস্যরা। দেশের চেয়ে ভারতে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় থাকা পাচারকারী চক্রের সদস্যরা তাদের সিলেট পাঠায়। এরপর সিলেটের পাচারকারীরা তাদের সীমান্ত পেরিয়ে ওই চক্রের ভারতীয় সদস্যদের হাতে তুলে দেয়। পাচারের শিকার হওয়া নারীদের একটি অংশ বিক্রি করে দেওয়া হয় ভারতের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে। আর কোনো কোনো নারী ও পুরুষকে আটকে রেখে বাধ্য করা হয় কঠিন পরিশ্রমের কাজে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, উড়িষ্যা, কেরালা ও রাজস্থানসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি অবৈধভাবে বসবাস করছেন। কাজের খোঁজে এসব রাজ্যে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে তারা সেখানে অবৈধভাবে থাকছেন। এসব বাংলাদেশিরা দেশে ফেরা ও ভারতে ফিরে যাওয়ার সময় আশ্রয় নেন পাচারকারী চক্রের সদস্যদের। সীমান্তের এপার-ওপারে থাকা চক্রটির সদস্যরা দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাদের সীমান্ত পার করে দেয়। তবে মাঝে মধ্যে ওপারে বিএসএফ ও এপারে বিজিবির হাতে ধরাও পড়েন অনুপ্রবেশকারীরা।

গত রবিবার সিলেটের জৈন্তাপুর থানাধীন ডিবির হাওর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় নারী ও শিশুসহ ১৮ জনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকেও আটক করা হয়। আটককৃত সবার বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জৈন্তাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা। এর আগে গত শুক্রবার গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রতাপপুর সীমান্ত ফাঁড়ির আওতাধীন নকশিপুঞ্জি মন্দিরঘাট এলাকা থেকে দুই তরুণী ও মানব পাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক করে বিজিবি। মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য গোয়াইনঘাট উপজেলার পান্থুমাই গ্রামের মো. জয়েন উদ্দিনের ছেলে আফছর দিনাজপুর ও মাদারীপুরের ওই দুই তরুণীকে ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছেন বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights