চকরিয়ায় বন্য হাতি হত্যা, মাটিচাপা দিয়ে গোপনের চেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক
কক্সবাজারের চকরিয়ায় হত্যার পর একটি বন্য হাতিকে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল দুর্বৃত্তরা। মাস পেরিয়ে গেলে সেখান থেকে বের হতে থাকে দুর্গন্ধ। আর দুর্গন্ধের সূত্র ধরে সেখান থেকে হাতির কঙ্কাল ও দেহাবশেষ উদ্ধার করে বন বিভাগ।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকার পাহাড়ে বন বিভাগের তৎপরতায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচন হয়।
বন বিভাগ ও স্থানীয় লোকজন জানান, অন্তত এক মাস আগে কাকারার মুসলিম নগর সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় কে বা কারা একটি হাতিকে হত্যা করে। পরে বনের ভেতরে হাতিটিকে মাটিচাপা দেয়। এমনকি বিষয়টি গোপন রাখতে পুঁতে রাখা জায়গার ওপর একটি ছোট কাঁচা ঘর তুলে দেয়, যাতে কেউ সন্দেহ না করে।
তারা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বন বিভাগের নলবিলা বিটের বনকর্মীরা নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় বীভৎস গন্ধ পান। এই গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে রহস্যময় ঘরটি শনাক্ত করেন তারা। পরে ঘরটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর বেরিয়ে আসে মাটিচাপা দেওয়া হাতির কঙ্কাল ও দেহাবশেষ।
সেদিন দুপুরেই ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপস্থিত লোকজনের সামনে মৃত হাতির ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা, চকরিয়া থানা পুলিশ ও পার্শ্ববর্তী লামা উপজেলার ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ির দুটি টহল দল।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান বলেন, হাতিটিকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে বা জেনারেটরের মাধ্যমে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পাহাড়ের ঢালে আবাদি জমির ফসল খেয়ে ও মাড়িয়ে নষ্ট করার জন্য দায়ী মনে করে দুর্বৃত্তরা হাতিটিকে মেরে ফেলেছে।
সাদেকুর রহমান বলেন, বন্য প্রাণী নিধন আইনে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অজ্ঞাতনামা হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। হাতি হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে মামলার প্রস্তুতিও চলছে।
