পরিযায়ী পাখি ইসাবেলিন হুইটিয়ার

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

ইসাবেলিন হুইটিয়ার খুবই অপরিচিত একটি নাম। এটি আমাদের দেশে নতুন একটি পাখি। এরা ইউরোপ, রাশিয়া, মধ্য এশিয়া, মঙ্গোলিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের আবাসিক পাখি। শীতে আফ্রিকা ও উত্তরপশ্চিম ভারতে পরিযায়ী হয়। তিন বছর ধরে আমাদের দেশে আসছে। কিন্তু সংখ্যায় কম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাজশাহীর সীমান্ত এলাকা পদ্মার চর থেকে ইসাবেলিন হুইটিয়ারের ছবি তুলেছেন শৌখিন ফটোগ্রাফার শাকিল আহমেদ। গত বছরের ডিসেম্বরে রাজশাহীতে আরও একবার এ পাখি দেখা গিয়েছিল। আর প্রথম দেখা যায় ২০২৪ সালে কুয়াকাটায়।

পাখিটির ইংরেজি নাম Isabellina Wheatear. আর বৈজ্ঞানিক নাম Oenanthe isabellina. এই পাখিটির কোনো প্রতিষ্ঠিত বাংলা নাম নেই। তাই শাব্দিক অর্থ বিবেচনায় কেউ ‘শ্যামলা কাঁকাল’ বা কেউ ‘ইসাবেলিন কানকালি’ নামে ডাকেন। এরা আমাদের দেশের পস্থ পরিযায়ী পাখি। শীতে নিজ আবাসে ফেরার পথে অল্প কয়েক দিনের জন্য বাংলাদেশে যাত্রাবিরতি করে। ইসাবেলিন হুইটিয়ার Muscicapidae গোত্রের ছোট আকারের গায়ক পাখি। এদের দৈর্ঘ্য ১৫-১৭ সেন্টিমিটার। ওজন ২০-৩০ গ্রাম। স্ত্রী ও পুরুষ দেখতে প্রায় একইরকম। শরীর ধূসর-হলদে বা শ্যামলা আভাযুক্ত। দেহের ওপরের অংশ ফ্যাকাশে বালু-বাদামি। চোখের ওপরে সাদা রেখা রয়েছে। চোখের মণি বাদামি। ঠোঁট ও পা কালো। গলা ফ্যাকাশে হলুদ। পেট ঘিয়ে-সাদা। পিঠের নিচের অংশ ধূসর-হলদে। ডানা গাঢ় বাদামি-কালো। লেজতল হালকা হলদে। ডানার নিচ ও লেজের ওপরের পালক সাদা।

এপ্রিল থেকে জুলাই এদের প্রজননকাল। এ সময় তারা ইঁদুর বা খরগোশের গর্ত, প্রাকৃতিক ফাঁকফোকর, পাথরের নিচে বা মাটির ঢিবিতে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৪-৬টি। ডিমের রং হালকা নীল বা নীলচে-সবুজ। ১২-১৪ দিনে ডিম ফোটে। ১৪-১৬ দিনে ছানারা উড়তে শেখে। এরা পিঁপড়া, ফড়িং, মথ, মাছি, মাকড়সা, শূককীট ও বীজ খেয়ে জীবনধারণ করে।

ফটোগ্রাফার শাকিল আহমেদ বলেন, ইসাবেলিন হুইটিয়ারের দেখা পাওয়া খুবই বিরল। এরা আমাদের দেশে অনিয়মিত পাখি। এবার নিয়ে তিনবার এদের দেখা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights