কৃত্রিম সংকট দূর করতে কঠোর সরকার

জিন্নাতুন নূর

জ্বালানি তেলের সংকট দূর করতে হার্ডলাইনে সরকার। অবৈধ মজুত রোধে চালানো হচ্ছে বিশেষ অভিযান। অভিযানগুলোতে তেলের অবৈধ মজুতের ভয়াবহ চিত্র উঠে আসছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃত্রিমসংকট ও চোরাচালান রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফিলিং স্টেশনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ‘ট্যাগ অফিসার’। বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে। গ্রাহক ভোগান্তি রোধে রাজধানীসহ সারা দেশে পাম্পের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তেল সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

যা করবেন ট্যাগ অফিসার : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যে, দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে একজন ‘ট্যাগ অফিসার’ প্রতিদিন তেলের প্রারম্ভিক মজুত রেকর্ড করবেন। ডিপো থেকে সরবরাহ করা তেল স্ব স্ব ফিলিং স্টেশনে উপস্থিত হয়ে পরিমাপ করে গ্রহণ এবং ফিলিং স্টেশনের পে-অর্ডার ও ডিপোর চালানের সঙ্গে তেলের পরিমাণ মিলিয়ে দেখবেন। ডিপ-রড/ডিপ স্টিকের মাধ্যমে তেল বুঝে নেবেন। ফিলিং স্টেশনে সংরক্ষিত রেজিস্ট্রারে ডিপো থেকে তেল গ্রহণের হিসাব মনিটর করবেন। প্রতিটি পাম্পে দিনে অন্তত তিনবার (সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা) স্টক আপডেট বাধ্যতামূলক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

বাড়াতে হবে পেট্রোল পাম্পের সংখ্যা : সরেজমিন রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল চালক পাম্প থেকে তেল নিচ্ছেন। এ চালকদের জন্য ঢাকায় পর্যাপ্ত পেট্রোল পাম্প নেই। প্রাইভেট কারগুলোর জন্য তেল নেওয়ার পাম্পের সংখ্যাও কম। সিএনজি গ্যাস প্রাপ্তিতে সমস্যার কারণে অনেকেই গাড়িতে তেল নেওয়া শুরু করেছেন। জ্বালানি ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঢাকায় তেল বিতরণে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। ঢাকায় শুধু মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার জন্যই অন্তত ২০টি পাম্প স্টেশন প্রয়োজন। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে সরকারকে মোটরসাইকেল ও রাইড শেয়ারিং যানগুলোকে তেল দেওয়ার জন্য আলাদাভাবে চিন্তা করতে হবে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দেশে তেলের পাম্পের লাইন্সেস দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। ফিলিং স্টেশনের সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার। যানবাহনের তুলনায় তেলের চাহিদা ও জোগান কী, তা সড়কে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারিতে নিয়ে আসতে হবে।

উত্তরের আট জেলায় তেল সরবরাহ বন্ধ : নীলফামারীতে জ্বালানি তেল চুরির অভিযোগে তিন শ্রমিককে কারাদণ্ড ও জরিমানা করার প্রতিবাদে রংপুর বিভাগের আট জেলায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন। গতকাল সকাল ৮টা থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর তেল উত্তোলন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ রেখে এ কর্মসূচি পালন শুরু হয়। শ্রমিকদের এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিও। ফলে রংপুর বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

সরকারি ডিপোতে মিলেছে অবৈধ তেলের মজুত : জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে বিশেষ অভিযানের মধ্যেই সরকারি একটি ডিপোতে পাওয়া গেছে হিসাবের বাইরে গোপনে মজুত করা তেল। শনিবার রাত ১২টা ৩৯ মিনিটে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মোংলা অয়েল ইনস্টলেশনে (ডিপো) অভিযান চালিয়ে তেলের এ মজুত শনাক্ত করা হয়। ডিপোটিতে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৬১৩ লিটার ডিজেল পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় এ ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights