ইরানের জ্বালানি তেল ও খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ চাই : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের জ্বালানি তেল ও খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ফিনান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই তার অন্যতম পছন্দের পরিকল্পনা। একই সঙ্গে তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ-এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “হয়তো আমরা খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেব, আবার হয়তো নেব না-আমাদের হাতে অনেক বিকল্প আছে।”

খারগ দ্বীপকে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই দ্বীপের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা মানে কার্যত ইরানের জ্বালানি অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার করা। ফলে ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, খারগ দ্বীপে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল। তার ভাষায়, “আমার মনে হয় না তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারি।”

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা-এর উদাহরণও টানেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে ইরানের বিষয়টির মিল রয়েছে। গত জানুয়ারিতে দেশটির রাজধানী কারাকাস-এ মার্কিন সামরিক অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এরপর থেকে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাত একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং ওয়াশিংটন সেখানেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে জানান ট্রাম্প।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেল ও কৌশলগত স্থাপনার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এমন প্রকাশ্য বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ইরান ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের মন্তব্য ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights