কুষ্টিয়ায় বাড়ছে হামের সংক্রমণ: ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন শিশুকে হামের (মিজেলস) উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে দৌলতপুর উপজেলায় ১ জনের শরীরে রোগ নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে শিশুদের জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ২০৯ জন শিশু হামের উপসর্গে ভর্তি হয়েছে। নিশ্চিত আক্রান্ত বা হোম সনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১১ জন।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার নাসরিন আক্তার জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে ৯০ শতাংশ শিশু ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে কুমারখালী ও দৌলতপুর উপজেলা হামের হটস্পট।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগী চাপ বেড়ে শয্যা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কয়েকটি বিছানায় দুইজন করে শিশু রাখা হয়েছে। অধিকাংশ শিশু জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও শরীরে ফোটা ফোটা র‌্যাশে ভুগছে। অনেক পরিবার অভিযোগ করেছেন, হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না, অক্সিজেন দেবার পানি, সিরিঞ্জ ও নল কিনতেও হচ্ছে বাইরে থেকে। চিকিৎসকের রাউন্ডও দিনে একবার মাত্র।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন ইমাম জানিয়েছেন, হাসপাতালের অক্সিজেন সার্পোর্ট আছে, তবে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট নেই। তিনজন গুরুতর রোগী তিনজন চিকিৎসক ও তিনজন নার্সের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, হামের টিকা পর্যাপ্তভাবে পাওয়া যায়নি। সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতার ঘাটতি এবং বাইরের জেলায় কাজ করা মানুষদের ফেরার কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য সব হাসপাতালে আলাদা ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে এবং টিকা হাতে পাওয়া মাত্র দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights