বহির্নোঙরে খালাস বন্ধের শঙ্কা
মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম
চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল (ডিজেল) না পাওয়ায় লাইটার জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল (সমুদ্রগামী বড় জাহাজ) থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহন বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা শুরুর পর মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না, এমন অভিযোগ করে আসছে লাইটার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) কর্তৃপক্ষ। জ্বালানি সংকটের সমাধান চেয়ে তারা এরই মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।
গত ৩০ মার্চ জ্বালানিমন্ত্রী বরাবর বিডব্লিউটিসিসির আহ্বায়ক সফি আহমেদের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের (পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা) মেরিন ডিলাররা লাইটার জাহাজে চাহিদা মোতাবেক তেল সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের সংকটে লাইটার জাহাজগুলো মাদার ভেসেল থেকে নিয়মিতভাবে মালামাল লোডিংয়ে যেতে পারছে না। এমনকি পণ্যবোঝাই করে খালাসের উদ্দেশ্যে যাত্রাও করতে পারছে না। যার কারণে দিন দিন বহির্নোঙরে লাইটারের সংকট দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে খুব কম সময়ের মধ্যে বন্দরে আগত মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। চিঠিতে আরও বলা হয়, পণ্য খালাস ব্যাহত হলে বন্দরে মাদার ভেসেল আসতে অনীহা প্রকাশ করবে। অপরদিকে মাদার ভেসেলের অবস্থানকাল দীর্ঘায়িত হবে, ডেমারেজ চার্জ হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যাবে। এর প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।
জানা গেছে, জেটি এলাকায় গভীরতা কম হওয়ার কারণে মাদার ভেসেলগুলো বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করে। বহির্নোঙর থেকেই খাদ্যশস্য, সিমেন্ট ক্লিংকার, নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও শিল্পের কাঁচামালবোঝাই করে লাইটার জাহাজ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। বিডব্লিউটিসিসির তত্ত্বাবধানে প্রায় ১ হাজার ৫০টি লাইটার রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন ৮০-৯০টি চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহন করে। আকার ভেদে একেকটি লাইটারে প্রতি ট্রিপে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার লিটার পর্যন্ত তেল লাগে। বিডব্লিউটিসিসির মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ জানান, প্রতিদিন লাইটারের জন্য আড়াই লাখ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। এর বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫০ হাজার লিটারের মতো। তেল সংকটের কারণে বহির্নোঙরে চাহিদামতো লাইটার পাঠানো যাচ্ছে না। সংকট সমাধানের অনুরোধ জানিয়ে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
লাইটার জাহাজে তেলের সংকট আছে কি না, থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন শিপিং এজেন্টরা। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, নানা কারণে আগে থেকেই লাইটারের কিছুটা অপর্যাপ্ততা ছিল, এখনো আছে। সরকার বলছে দেশে জ্বালানির সংকট নেই। তাহলে লাইটার জাহাজ কেন তেল পাবে না। নাকি কোনো পক্ষ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব বিষয় সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
