পরোক্ষভাবে পরাজয় স্বীকার করেই নিলেন ট্রাম্প?
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণটি চলমান পরিস্থিতির কোনো বস্তুনিষ্ঠ চিত্র নয় বরং নিজের ব্যর্থতা ঢাকার এক মরিয়া প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন ইরানি বিশ্লেষকরা। অনেকটা লক্ষ্যভ্রষ্ট শিকারি যেমন নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে যেখানে গুলি লেগেছে তাকেই লক্ষ্যবস্তু বলে দাবি করেন, ট্রাম্পও ঠিক তেমনি যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো বদলে ফেলে এখন এক কাল্পনিক বিজয়ের গল্প ফাঁদছেন।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এই ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কখনোই তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল না। অথচ যুদ্ধের শুরুতে আমেরিকার প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো উপড়ে ফেলা এবং দেশটির প্রতিরক্ষা ও পারমাণবিক সক্ষমতা চিরতরে ধূলিসাৎ করে দেওয়া।
বাস্তবতা হলো, যুদ্ধের এক মাস পেরিয়ে গেলেও আমেরিকা তাদের একটি লক্ষ্যও পূরণ করতে পারেনি। ট্রাম্পের ভাষণে সবচেয়ে হাস্যকর দাবি ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন নিয়ে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো উপহাস করে বলছে, বর্তমান নেতৃত্বের উত্তরসূরি হিসেবে আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে ট্রাম্প যদি ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ বলে চালিয়ে দিতে চান, তবে তা কেবল তাঁর নিজের মূর্খতারই পরিচয় দেয়। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে নিজের অক্ষমতার কথা একপ্রকার স্বীকার করে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি এখন দায় এড়িয়ে বলছেন, তেল দরকার হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
মাঠের চিত্র ট্রাম্পের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। যদি ইরানের নৌবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ধ্বংস হয়েই থাকে, তবে গত রাতেও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের ওপর হওয়া স্মরণকালের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো কোথা থেকে এলো সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষণের মাধ্যমে ট্রাম্প আসলে নিজের পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন এবং আসন্ন নির্বাচন বা জনরোষ থেকে বাঁচতে এখন মিথ্যা সাফল্যের প্রচার শুরু করেছেন। নিজের পূর্বসূরিদের সাথে তুলনা টেনে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তাঁর ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম আমেরিকার দীর্ঘকালীন যুদ্ধনীতিরই অংশ। মূলত হরমুজ প্রণালী সচল করতে না পারা এবং ইরানের মূল প্রতিরক্ষা কাঠামো ভাঙতে ব্যর্থ হওয়াই ট্রাম্পের এই কথিত বিজয়গাথার পেছনের আসল সত্য।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
