ইরানে মার্কিন পাইলট নিখোঁজ, ৩১ বছর আগের স্মৃতি ফিরল আবার
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করার পরপরই নিখোঁজ ক্রুদের উদ্ধারে ‘কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ অভিযান শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযানে ইতিমধ্যে বিমানের একজন ক্রু সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপরজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজের ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে মার্কিন এইচসি-১৩০ এবং দুটি এইচএইচ-৬০ ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারকে ইরানি ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে উড়তে দেখা গেছে।
তবে এই উদ্ধার অভিযান মোটেই সহজ হচ্ছে না। পেন্টাগন জানিয়েছে, নিখোঁজ পাইলটকে সুরক্ষা দিতে আকাশ থেকে কভার দিচ্ছিল একটি এ-১০ ওয়ার্থহগ বিমান, যা ইরানি বাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে পাইলট সাহসিকতার সাথে বিমানটিকে ইরানি আকাশসীমা থেকে পারস্য উপসাগরের ওপর নিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং সেখানে ইজেক্ট করার পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ইরানের স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে কোনো সাধারণ নাগরিক যদি মার্কিন পাইলটকে জীবিত ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে পারে তবে তাকে বড় অঙ্কের পুরস্কার দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংকটময় পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে তারা আশা করছেন কোনো ক্রু সদস্য যেন ইরানের হাতে বন্দি না হন।
বর্তমান এই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি ১৯৯৫ সালের বসনিয়া যুদ্ধের সেই আলোচিত ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যেখানে মার্কিন পাইলট স্কট ও’গ্রেডি ঠিক একইভাবে শত্রু শিবিরের পেছনে আটকা পড়েছিলেন। সে সময় ও’গ্রেডির এফ-১৬ বিমানটি সার্ব বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গিয়েছিল। জ্বলন্ত ককপিট থেকে প্যারাশুটে করে নিচে নামার পর টানা ছয় দিন ও’গ্রেডিকে সার্ব প্যারা-মিলিটারি বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে বনের ভেতর লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল।
সেই দুঃসহ দিনগুলোতে খাবারের অভাবে তিনি পিঁপড়া ও লতাপাতা খেয়ে জীবন ধারণ করেছিলেন এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে তৃষ্ণা মিটিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত মার্কিন মেরিন কোর তাকে এক নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করে।
বর্তমানের এফ-১৫ই বিমানের নিখোঁজ পাইলটকে নিয়েও এখন একই ধরনের উৎকণ্ঠা কাজ করছে। একদিকে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম ভূখণ্ড, অন্যদিকে ইরানি সেনাদের কড়া পাহারা; সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় পার করছেন নিখোঁজ ওই মার্কিন সেনা সদস্য। পেন্টাগনের পরিকল্পনাকারীরা এখন রিয়েল টাইম ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে নিখোঁজ পাইলটের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই উদ্ধার অভিযান সফল করতে প্রয়োজনে আরও বড় ধরনের সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতিও রাখছে ওয়াশিংটন।
সূত্র: ইউরো এশিয়ান টাইমস
