ইসরায়েলে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ ও ধরপাকড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের তেল আবিব শহরে আয়োজিত একটি যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে ব্যাপক চড়াও হয়েছে দেশটির পুলিশ। শনিবার রাতে শহরের প্রাণকেন্দ্রে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশি অভিযানে অন্তত ১৭ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ জনকে গ্রেফতারের দাবি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

বিক্ষোভকারীদের একজন জুভাল জুর গণমাধ্যমকে জানান, হাবিম স্কয়ারে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শুরু হলেও মুহূর্তের মধ্যেই পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ সদস্যদের ধাক্কায় অনেকে মাটিতে পড়ে যান এবং পুলিশের কঠোর বলপ্রয়োগের কারণে একজন আন্দোলনকারী প্রায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

এর আগে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট সর্বোচ্চ ৬০০ জনের অংশগ্রহণে এই বিক্ষোভ করার অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে শনিবার রাতে বিক্ষোভস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখে পুলিশ দাবি করে যে, সেখানে অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি মানুষ জড়ো হয়েছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা মেগাফোনের মাধ্যমে সতর্ক করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৬০০ জনের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও বর্তমানে প্রায় এক হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, পুলিশকে যেন শক্তি প্রয়োগ করতে বাধ্য না করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের নিয়ে কাজ করা একটি আইনি সহায়তা সংস্থা জানিয়েছে, পুলিশ অন্তত ১৭ জনকে তুলে নিয়ে গেছে। যদিও পুলিশ তাদের নথিতে ১০ জন ‘দাঙ্গাকারীকে’ গ্রেফতারের কথা উল্লেখ করেছে।

বিক্ষোভ ও ধরপাকড় চলাকালীন একপর্যায়ে সেখানে বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। আসন্ন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা পেয়ে বিক্ষোভকারী এবং ঘোড়সওয়ার পুলিশসহ উপস্থিত প্রায় সবাই হাবিম স্কয়ারের নিচের বিশাল ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, পুলিশ তখন গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মূল আশ্রয়কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি, বরং তাদের পাশের একটি সিঁড়ির নিচে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান এই যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন দমনে ইসরায়েলি প্রশাসনের কঠোর অবস্থান স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights