রংপুরে ঘরের মেঝে ‘ঘামছে’, আতঙ্কে মানুষ, যা বলছে আবহাওয়া অফিস

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরসহ আশপাশের এলাকায় কয়েকদিন ধরে ঘরের মেঝে কিছুটা ‘অস্বাভাবিকভাবে ভেজা বা ঘামার’ ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ একে ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।

তবে আবহাওয়া অফিস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এর সঙ্গে কোনো দুর্যোগের সম্পর্ক নেই; বরং বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও জলীয় বাষ্পের কারণেই এমনটি ঘটছে।

রংপুর নগরীর শাহীপাড়া এলাকার গৃহিণী মনিরা বেগম জানান, তার দুটি রুম বেশ কয়েকদিন ধরে অস্বাভাবিক হারে ঘামছে। ঘরের মেঝে ঘামা দেখে তিনি আতঙ্কে রয়েছেন। তিনি আশপাশের বাড়িগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, প্রতিবেশীদের ঘরের মেঝেও ঘামছে। এ নিয়ে পুরো গ্রামে এক ধরনের উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

তবে আবহাওয়া অফিস এর কারণ ও কিছুটা প্রতিকারও জানিয়েছে। তারা বলছেন, এ নিয়ে ভয় পাওয়ার বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, মার্চ মাসে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় না। হলেও খুব কম। এবার হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। গরম বাতাসের জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা ঠান্ডা বাতাসের চেয়ে বেশি। টানা বৃষ্টির পর হঠাৎ তাপমাত্রা বাড়ছে কয়েকদিন থেকে। বৃষ্টির জন্য বাতাসের আর্দ্রতা ছিল বেশি। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা আরও বাড়ে।

অন্যদিকে, ঘরের ঠান্ডা মেঝে ও দেয়ালের সংস্পর্শে এসে গরম বাতাস ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে যায়। তখন গরম বাতাসের জলীয়বাষ্প বিন্দু বিন্দু পানির আকারে দেওয়াল ও মেঝেতে জমতে থাকে। এটাই মেঝে ঘামার অন্যতম কারণ।

প্রতিকার হিসেবে তিনি বলেন, মেঝে ঘামার সময় দরজা-জানালা বন্ধ করে দিলে আর্দ্র বাতাস বাইরে থেকে ঘরে আসতে পারবে না। ভেজা মেঝে মোছার জন্য শুকনো কাপড় ব্যবহার করলে এতে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু পানি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভেজা ভ্যাকুয়াম ব্যবহার করে মেঝে পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে কিছুসময় পরে এমনিতেই মেঝে শুকিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর কোনো কারণ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights