স্মার্টকার্ড ও পিওএস মেশিনের শুল্ক কমানোর দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে স্মার্টকার্ড এবং পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (আমচ্যাম)। একই সঙ্গে কার্বনেটেড ও মিষ্টি পানীয়ের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এ ছাড়া সিগারেটের প্যাকেটের ওপর একটি নির্দিষ্ট বা ফিক্সড অঙ্কের টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেয় তারা। গতকাল রাজধানীর এনবিআর ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব দেয় আমচ্যাম। প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। বক্তব্য রাখেন আমচ্যামের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ, বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই), বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবসায়ী সংগঠন ইউরোচ্যামের প্রতিনিধিরা।
বাজেট প্রস্তাবনায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (আমচ্যাম) জানায়, বর্তমানে পানীয় খাতে মোট করভার ৫৪ শতাংশ হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, ভোক্তা চাহিদা কমছে এবং বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এ কর অনেক বেশি (ভারতে ৪০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ২৯.২ শতাংশ, নেপাল ৩৮.৪৩ শতাংশ)। আমচ্যাম কার্বনেটেড ও মিষ্টি পানীয়ের সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া সিগারেটের করকাঠামো সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে আমচ্যাম। সিগারেটের বর্তমান সম্পূরক শুল্ক ৬৭ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, এবং স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ১ শতাংশ হিসেবে নির্ধারিত। অর্থাৎ মোট করের হার দাঁড়ায় প্রায় ৮৩%। এ ছাড়া কোম্পানিগুলোকে মুনাফার ওপর আরও ৪৭.৫% কর দিতে হয়। ফলে আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই সরকারি কোষাগারে চলে যায়, যা ব্যবসা পরিচালনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্পূরক শুল্ক শতাংশের পরিবর্তে প্রতি ১০ বা ২০ শলাকার প্যাকেটের ওপর একটি নির্দিষ্ট বা ফিক্সড অঙ্কের টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেয় তারা।
অন্যদিকে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) ব্যক্তিগত আয়করের সর্বোচ্চ হার ২০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ওপর সারচার্জ মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছে। তারা গার্মেন্টস শিল্পে ৫০ শতাংশ কাঁচামাল দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করারও সুপারিশ করে। বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ব্যক্তিগত আয়করসীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ, ট্রেড লাইসেন্স ফি ৫০ শতাংশ কমানো এবং নারী উদ্যোক্তাদের শোরুমে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবসায়ী সংগঠন ইউরোচ্যাম বিনিয়োগবান্ধব করনীতি, প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ওপর জোর দিয়েছে। তারা কার্বনেটেড ও মিষ্টি পানীয় প্রস্তুতকারকের ওপর ন্যূনতম কর ৩ শতাংশের পরিবর্তে ১ শতাংশ পরিশোধ করার প্রস্তাব করছে।
