ট্রাম্পের কণ্ঠে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি, আলোচনার টেবিলে সমাধানের আশা ভ্যান্সের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য সংকট। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এড়াতে এখনো ‘ব্যাপক আলোচনা ও দরকষাকষি’ চলছে।
হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র ১২ ঘণ্টার মতো বাকি আছে। ইরান কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে আসবে কি না, তা সময়ের ব্যবধানে পরিষ্কার হবে। তবে তিনি এখনো একটি শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ভাইস প্রেসিডেন্টের এই নরম সুরের ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক অত্যন্ত কঠোর বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, আজ রাতে একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, যা হয়তো আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমন কিছু ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত এটিই হতে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের এই বার্তা বিশ্বজুড়ে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে, যা সরাসরি এক ভয়াবহ যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগেও ট্রাম্প ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, ইরান যদি তার শর্ত না মানে, তবে দেশটির সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এমনকি সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের আন্তর্জাতিক উদ্বেগকেও তিনি বারবার উড়িয়ে দিয়েছেন।
বর্তমানে হোয়াইট হাউসের এই দ্বিমুখী অবস্থান—একদিকে ভ্যান্সের আলোচনার টেবিলে ফেরার ইঙ্গিত এবং অন্যদিকে ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক আলটিমেটাম—ইরান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যতের জন্য এক চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
