উপকূলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা

ঠান্ডার প্রকোপ কেবলই কমেছে। গরমের শুরু। আর তাতেই খুলনার উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। লবণাক্ততার প্রভাবে নলকূপের পানি মুখে দেওয়া দুষ্কর। অনেক স্থানে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। আর প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন মানুষের পানির ভরসা পুকুর।

কয়রা মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে ১০টি গ্রামের মানুষ খাওয়ার জন্য পুকুরের পানি ব্যবহার করেন। দূরদূরান্ত থেকে হেঁটে নারীরা কলসে করে পুকুরের পানি সংগ্রহ করেন। কয়রার দক্ষিণ বেতকাশি, বাগালি, মহারাজপুর, আমাদী ইউনিয়নেও লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে মিষ্টি পানির আঁধার।

পানিবিষয়ক গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান অ্যাওসেডের নির্বাহী পরিচালক শামীম আরেফিন বলেন, খুলনার ২২ শতাংশ, বাগেরহাটে ১৫ শতাংশ ও সাতক্ষীরার ১৩ শতাংশ মানুষ খাবার পানি সংকটে রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, চিংড়ি চাষ ও কৃষিজমি-জলাভূমি ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণে পরিস্থিতি ভয়ংকর হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের তথ্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় দুই-আড়াই ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপে পানি উঠছে না।

মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারি বলেন, লবণাক্ততার কারণে টিউবওয়েলের পানিও মুখে দেওয়া যায় না। এখানে ১১টি গ্রামে মানুষ খোলা পুকুরের পানি খায়। কিছু মানুষ প্লাস্টিকের ট্যাংকে বৃষ্টির পানি জমিয়ে রেখে সারা বছর খায়। বাকিরা বহুদূও থেকে পানি সংগ্রহ করে।

এদিকে ৩১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত খুলনা নগরে ৭৪ হাজার হোল্ডিংয়ে বাসিন্দা ১৫ লাখ। দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে পানির চাহিদাও। প্রতিদিন গড়ে ২৪ কোটি লিটার পানির চাহিদা রয়েছে নগরে। কিন্তু পাইপ লাইনে ৮-১১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারছে ওয়াসা। ফলে নগরে বিশুদ্ধ পানির ভোগান্তি রয়েছে। এ ছাড়া চলতি শুষ্ক মৌসুমে নিরালা, টুটপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ওয়াসার পাম্পে পানি উত্তোলনের হারও কমেছে। ফলে নাজিরঘাট, নিরালাসহ বিভিন্ন স্থানে সুপেয় পানির সংকট তৈরি হচ্ছে।

শহরের সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম জানান, এবার শুষ্ক মৌসুমে শুরু থেকে পানির সংকট তৈরি হচ্ছে। রিকশায় বা হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে দূরদূরান্ত থেকে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহিম মো. তৈমুর জানান, যেখানে নলকূপের পানি পানযোগ্য নয়, সেখানে মিনি ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেমের মাধ্যমে পাইপলাইনে পানি সরবরাহ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

খুলনা ওয়াসা কর্মকর্তারা বলছেন, পানি সরবরাহ প্রকল্প-ফেজ-২ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সিটি করপোরেশনে ১-১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়াসার পানির পাইপলাইনের সংযোগ দেওয়া হবে। সে সময় পানির সংকট থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights