ড্রেনের পানিতে ভাসছে এলিফ্যান্ট রোড

তাওসিফ মাইমুন
ড্রেনের নোংরা পানি জমে থাকছে এলিফ্যান্ট রোডে। দুর্গন্ধে এই সড়ক ব্যবহার দুঃসহ হয়ে উঠছে পথচারীদের জন্য… ছবি- জয়ীতা রায়

জলজটের ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দারা। রাস্তায় জমে থাকা ময়লা পানির দুর্গন্ধে বেহাল অবস্থা বাসিন্দাদের। ড্রেনের পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় তৈরি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। জমে থাকা পানিতে খানাখন্দ বুঝতে না পারায় ঘটছে দুর্ঘটনা। এ পরিস্থিতির কারণে ক্রেতা না আসায় বিপাকে সড়কের দুই পাশের দোকান ও শপিং মলের ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় নিউমার্কেট পার হয়ে ইস্টার্ন মল্লিকা পর্যন্ত অর্ধেক রাস্তায় ময়লা পনি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে এই রাস্তায় ময়লা পানি জমে রয়েছে। বাধ্য হয়ে জমে থাকা পানিতে ইট বিছিয়ে লাফঝাঁপ দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। ময়লা পানির দুর্গন্ধে নাক চেপে হাঁটতে হচ্ছে পথচারীদের। তাতে ব্যবসায়ীরা রেস্তোরাঁ-বিপণিবিতান ও মুদি দোকান খুললেও ক্রেতা খরায় দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করলেও গত আট মাস ধরে ওয়াসার পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী আসে না। নিজেদের উদ্যোগে দুবার পরিষ্কার করালেও প্রয়োজনীয় যন্ত্র না থাকায় জমে থাকা ময়লার স্তূপ পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তাতে স্যুয়ারেজের মুখ বন্ধ হয়ে পানি রাস্তার ওপর জমে থাকছে। জমাট বাঁধা পচা পানিতে বংশবিস্তার করছে মশা। বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। রাস্তার এ অবস্থার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসের উদ্দেশে রওনা হওয়া ব্যক্তিরা সঠিক সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারেন না। বয়স্ক লোকজনের রাস্তায় চলাচল করতে কষ্ট হয়।

এই সড়কের মহসিন স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. মহসিন হাওলাদার বলেন, এক বছরের মধ্যে ওয়াসা থেকে ড্রেন পরিষ্কার করার জন্য কাউকে আসতে দেখিনি। ময়লা পানির জন্য মশার উৎপাত অনেক বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি পচা পানির দুর্গন্ধে আগের মতো ক্রেতা আসে না। আগে দৈনিক ২৫-৩০ হাজার টাকা বিক্রি হলেও তা এখন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

পাশের রেস্তোরাঁ রোজা হ্যাভেনের ম্যানেজার আলমগীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ময়লা পানির দুর্গন্ধে হোটেলে বসে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার অবস্থা। এভাবে চললে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। গত ১৫ দিন পানি জমে থাকলেও ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা অভিযোগ করলেও সমাধান হয়নি।

এ ছাড়া নিউমার্কেট থেকে ইস্টার্ন মল্লিকা পর্যন্ত রাস্তার পাশে একাধিক খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এগুলোতে সতর্কতার চিহ্নও নেই। নূরুজ্জামান নামের এক পথচারী বলেন, নর্দমার খানাখন্দে অসতর্ক অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ সামান্য অসতর্কতায় পথচারীরা যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।

এ বিষয়ে প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এলিফ্যান্ট রোডের জমে থাকা ময়লা পানি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। জনস্বাস্থ্যের বিষয় মাথায় রেখে সমস্যাটা দ্রুত সমাধান করার দরকার ছিল। স্যুয়ারেজ নিষ্কাশন ব্যবস্থা সমাধানে ওয়াসা অবহেলা করেছে। এই সমস্যা সমাধানে অবহেলায় জড়িতদের শনাক্ত করা জরুরি। যাতে শহরের অন্য কোথাও এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights