ট্রাম্পকে ফের বিপদে মধ্যে ঠেলে দিচ্ছেন নেতানিয়াহু?

অনলাইন ডেস্ক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন খাদের কিনারে। লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলার প্রতিবাদে তেহরান আবারও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অবিলম্বে এই জলপথ খুলে দেওয়ার দাবি জানালেও তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের এই ভঙ্গুর চুক্তিকে উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয় হিসেবে দাবি করলেও লেবাননে ইসরায়েলি সংঘাত সব হিসাব পাল্টে দিচ্ছে।

বুধবার বৈরুতের আবাসিক এলাকায় একের পর এক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে সমন্বিত হামলাটি পরিচালনা করেছে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈরুতসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু বৈরুতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৯১ জন। ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের সঙ্গে সংযোগকারী লিটানি নদীর ওপরের শেষ সেতুটিও ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলটি কার্যত দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইসরায়েল সেখানে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়ে হাসপাতাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রেও আঘাত হানছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই চুক্তিকে ‘ভঙ্গুর’ বলে অভিহিত করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়টি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, এই সমঝোতা লেবাননসহ সব অঞ্চলের জন্যই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটন চুক্তির অন্তত তিনটি শর্ত লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা এবং ইরানি আকাশসীমায় ড্রোনের অনুপ্রবেশ নিয়ে তেহরান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরানকে অবিলম্বে তেলের এই গুরুত্বপূর্ণ করিডোরটি উন্মুক্ত করতে হবে।

ইসরায়েলি সূত্রের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে তেল আবিব মোটেও সন্তুষ্ট নয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, চুক্তি চূড়ান্ত করার আগমুহূর্তে মাত্র একবার ফোন করে নেতানিয়াহুকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল, যা নিয়ে ইসরায়েলি প্রশাসনের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বর্তমানে লেবাননের ১৫ শতাংশ এলাকা জুড়ে ইসরায়েলি উচ্ছেদ আদেশের ফলে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের সামরিক শক্তিকে ‘পরাজিত’ বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে ইরান একে ওয়াশিংটনের ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights