হকার উচ্ছেদের পাশাপাশি পুনর্বাসন করার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেটের দক্ষিণ পাশে জিপিও লিংক রোডের দুই পাশের ফুটপাতে গতকাল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অভিযানে ফুটপাতে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান ভেঙে ফেলা হয়। এর আগে কয়েক দিন গুলিস্তান, পল্টন, মতিঝিল, সায়েন্সল্যাব, মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক, ফুটপাত দখলমুক্তে অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। অভিযানে ফুটপাত অনেকটা দখলমুক্তের পাশাপাশি নগরবাসীর চলাচলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে একই সঙ্গে এ অভিযান হাজার হাজার হকারের জন্য কর্মসংস্থান হারানোর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু উচ্ছেদ কার্যক্রম চালিয়ে সাময়িকভাবে ফুটপাত ফাঁকা করা গেলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক উদ্যোগ।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, হকার চক্র থেকে বের হতে হলে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত পুনর্বাসন ব্যবস্থা। তারা প্রস্তাব করছেন, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নির্দিষ্ট ‘হকার জোন’ বা অস্থায়ী বাজার গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের বৈধভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে। এসব জোন এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে এবং শহরের যানবাহন চলাচলও স্বাভাবিক থাকে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, হকারদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা ও ডেটাবেজ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এতে প্রকৃত হকারদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে। অনেক সময় দেখা যায়, প্রভাবশালী মহলের লোকজন বা সংগঠিত চক্র হকারদের নামে ফুটপাত দখল করে চাঁদাবাজি চালায়, যা প্রকৃত দরিদ্র হকারদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং পরিচয়পত্র প্রদান করলে এ ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অন্যদিকে নগরবাসীর একটি বড় অংশ ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার পক্ষে জোরালো মত দিচ্ছে। মতিঝিলে বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করা রুস্তম আলী বলেন, আগে গুলিস্তান এলাকা অতিক্রম করতে প্রতিদিন এক থেকে দেড় ঘণ্টা বেশি সময় লাগত। পকেটমারের ভয়ও থাকত। এখন সবকিছু পরিষ্কার, সবাই নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ?‘ঢাকা থেকে হকার উচ্ছেদে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে কেবল উচ্ছেদ না করে পরিকল্পিত পুনর্বাসন ও হকারদের তালিকাভুক্ত করা প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া উচ্ছেদ কার্যকর হয় না, যা হকারদের আবারও ফুটপাতে ফিরিয়ে আনে।’ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমরা ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হকার, পথচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসেছি। সমাধানের জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। তারা সুপারিশ দেবেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, সড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে থাকা দোকান উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত আমাদের কাছে ৮০টি উচ্ছেদের জন্য আবেদন এসেছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights