যে কারণে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে উত্তর কোরিয়া

অনলাইন ডেস্ক

উত্তর কোরিয়া চলতি সপ্তাহে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সমরাস্ত্র আধুনিকায়নে মনোযোগী হয়েছে দেশটি। এসব পদক্ষেপ আধুনিক যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা প্রদর্শনে পিয়ংইয়ংয়ের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে এই ধারাবাহিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদান করছে উত্তর কোরিয়া। এই পরিস্থিতির কারণে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সংলাপ পুনরায় চালুর সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই পরীক্ষাগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত ক্লাস্টার ওয়ারহেড, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক অস্ত্র এবং কার্বন-ফাইবার বোমার কার্যকারিতা অত্যন্ত সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পরীক্ষা করেছে দেশটি।

এদিকে, এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ব্লু হাউস এক জরুরি জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল বৈঠক আহ্বান করে। একে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন এবং উসকানি হিসেবে অভিহিত করে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি এসব পরীক্ষা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাপানের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের ১০ মিনিট পর ক্ষেপণাস্ত্রটি সমুদ্রে পড়েছে। টোকিও নিশ্চিত করেছে যে, কোনো ক্ষেপণাস্ত্র তাদের জলসীমায় প্রবেশ করেনি। জাপানের প্রধান কেবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা বলেছেন, পিয়ংইয়ংয়ের এ কর্মকাণ্ড এ অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরীক্ষা নিয়মিত অস্ত্র উন্নয়নের অংশ হতে পারে। বিশেষ করে সলিড-ফুয়েল বা কঠিন জ্বালানিচালিত ইঞ্জিনের পরীক্ষার সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে দ্রুত ও সহজে পরিচালনা করা যায়। সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights