ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধান মিলতে পারে, আশাবাদী নাসা

অনলাইন ডেস্ক

মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেছেন নাসার প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। বিশাল মহাবিশ্বে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি এবং অগণিত নক্ষত্রজগতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় এমন প্রমাণ মিলতে পারে যে পৃথিবীর বাইরেও প্রাণ রয়েছে। নাসার চলমান গবেষণা ও মহাকাশ অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে এই প্রশ্ন—মানুষ কি মহাবিশ্বে একা?

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচন করাই নাসার কাজ। আর সেই রহস্যের অন্যতম বড় প্রশ্ন হলো, পৃথিবীর বাইরে কোথাও প্রাণ আছে কি না। তিনি বলেন, এত বিপুল সংখ্যক গ্যালাক্সি ও নক্ষত্রজগতের মধ্যে অন্য কোথাও প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা ‘অনেক বেশি’।

এ প্রসঙ্গে নাসা বর্তমানে চাঁদ ও বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপায় প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। আর্টেমিস মিশন এবং ইউরোপা ক্লিপার এই অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিজ্ঞানীরা আরও শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–নির্ভর তথ্য বিশ্লেষণ পদ্ধতি তৈরি করছেন, যা মহাকাশে সম্ভাব্য জীবনচিহ্ন শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। সম্ভাব্য চন্দ্রঘাঁটির দক্ষিণ মেরুতেও দূরবীক্ষণ যন্ত্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা এই অনুসন্ধানকে আরও এগিয়ে নেবে।

তিনি আরও বলেন, নাসার প্রায় প্রতিটি বৈজ্ঞানিক ও অনুসন্ধানমূলক উদ্যোগেই এই লক্ষ্য অন্তর্নিহিত রয়েছে। শুধু চাঁদে ঘাঁটি নির্মাণ নয়, ভবিষ্যতের মহাকাশ অনুসন্ধানেও ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধান একটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে আইজ্যাকম্যান স্পষ্ট করেছেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি নিজে মহাকাশে দুইবার গিয়েও কোনো ভিনগ্রহের প্রাণীর দেখা পাননি। তার ভাষায়, এখন পর্যন্ত এমন কিছু তিনি দেখেননি যা থেকে বোঝা যায় পৃথিবী বুদ্ধিমান ভিনগ্রহী প্রাণীর দ্বারা পরিদর্শিত হয়েছে।

এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও এক সাক্ষাৎকারে ভিনগ্রহের প্রাণ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, ভিনগ্রহের প্রাণ ‘বাস্তব’ হতে পারে, তবে সেগুলো কোথায় রয়েছে তা তিনি জানেন না। একই সঙ্গে তিনি এরিয়া ৫১–এ ভিনগ্রহের প্রাণী লুকিয়ে রাখার প্রচলিত ষড়যন্ত্রতত্ত্বও নাকচ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights