ইরান যুদ্ধ চীনের ওপর বাড়াচ্ছে অর্থনৈতিক চাপের বোঝা
অনলাইন ডেস্ক
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালীর ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তেহরান। বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়, যা এখন প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
যদিও চীন বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে উপসাগরীয় যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ধাক্কা এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশীদের তুলনায় বেশ ভালোভাবেই সামলে নিয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজার অস্থির থাকায় বেইজিংয়ের জন্য এই সংঘাতের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।
এর একটি বড় কারণ হলো ইরান। ইরানি তেলের প্রধান আমদানিকারক হিসেবে চীন এমন একটি দেশ, যারা তেলের প্রবাহে মার্কিন পদক্ষেপের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
গত মাসে হোয়াইট হাউস ইরানি তেলের ওপর থেকে কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সময় এবং বর্তমানে যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করেছে-উভয় ক্ষেত্রেই চীন সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো চীনে হয়তো তাৎক্ষণিক জ্বালানি ঘাটতি তৈরি করবে না, কারণ দেশটি এ ধরনের ধাক্কা সামলাতে আগে থেকেই বেশ প্রস্তুত।
তবে এগুলো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ঠিক এমন এক সময়ে এই চাপ বাড়ছে যখন বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি চীনের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এবং এমন এক মুহূর্তে যখন কূটনীতিকরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী মাসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে, যা এর আগে একবার স্থগিত হয়েছিল।
চীনা কর্মকর্তারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক অংশীদার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যুদ্ধে শান্তির আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে চীন সহায়তা করেছে।
এখন এই গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতি পর্যায়ে বেইজিং তার কূটনীতিকে কীভাবে পরিচালিত করবে, তা নির্ভর করছে দেশটির অর্থনীতি বর্তমানে কতটা চাপের মুখে রয়েছে তার ওপর।
সূত্র : সিএনএন।
