বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে নীতীশ কুমারের পদত্যাগ, স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন কে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের বিহারের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করলেন জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার। মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।
ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান মন্ত্রিপরিষদের এটিই ছিল শেষ বৈঠক। নীতীশের এই সরে দাঁড়ানোর ফলে বিহারের ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটে এক বড় ধরনের নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। আজ বিকেলের মধ্যেই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
নীতীশ কুমারের এই পদত্যাগ আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়। এর আগে গত ১০ এপ্রিল তিনি রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তখনই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল যে, নীতীশ হয়তো এবার দিল্লির রাজনীতিতে মনোনিবেশ করবেন এবং বিহারের জন্য নতুন কোনো উত্তরাধিকারী নির্বাচন করবেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নীতীশ কুমার ভারতের লোকসভা, রাজ্যসভা এবং বিহারের বিধানসভা ও বিধান পরিষদ— এই চারটি কক্ষেরই সদস্য হওয়ার এক অনন্য গৌরব অর্জন করলেন।
জনতা দল ইউনাইটেডের কার্যনির্বাহী সভাপতি সঞ্জয় কুমার ঝা জানিয়েছেন, নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী না থাকলেও বিহারের উন্নয়নে তার প্রভাব ও নির্দেশনা অব্যাহত থাকবে। তার নীতি ও আদর্শকে ভিত্তি করেই পরবর্তী সরকার পরিচালিত হবে। তিনি কেবল রাজ্যসভার অধিবেশনের সময় দিল্লিতে অবস্থান করবেন এবং বাকি সময় বিহারের মানুষের পাশেই থাকবেন। এনডিএ জোটের এই ক্ষমতার রদবদল নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই জল্পনা তুঙ্গে ছিল। বিশেষ করে উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে নীতীশের সাম্প্রতিক বৈঠক এবং বিজেপির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এদিকে নীতীশের রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে জেডিইউ-এর ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলের একাংশ নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারকে সক্রিয় রাজনীতিতে আনার দাবিতে পাটনার রাজপথে পোস্টার টাঙিয়েছেন। তবে বিজেপি ও জেডিইউ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-৩০ সালের নির্বাচনী ম্যান্ডেট যেহেতু নীতীশের নেতৃত্বেই অর্জিত হয়েছে, তাই নতুন যে নেতৃত্বই আসুক না কেন, তা নীতীশের ছায়াতলে থেকেই কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নীতীশ কুমারের এই প্রস্থান বিহারের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: নিউজ ১৮
