পদ্মার বুকে দ্বিতীয় সেতুর অপেক্ষায় কোটি মানুষ

দেবাশীষ বিশ্বাস, রাজবাড়ী ও কাবুল উদ্দিন খান, মানিকগঞ্জ
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। স্বাধীনতার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগে পদ্মার বুকে স্টিমার, লঞ্চ আর ফেরি এ অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাশাপাশি মানিকগঞ্জের মানুষও আশায় ছিলেন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় হবে প্রথম পদ্মা সেতু। কিন্তু মাওয়া-জাজিরায় পদ্মা সেতু হওয়ায় তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। এরপর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের গুরুত্ব কমিয়ে দেয় বিগত সরকার। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আবারও আশা জেগে উঠেছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হলে ফেরি ঘাটে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। দুই পারেই গড়ে উঠবে ছোট বড় শিল্পাঞ্চল এবং পর্যটন এলাকা। কর্মসংস্থান হবে হাজার হাজার মানুষের। সেতু বিভাগের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রায় ৪.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি জাতীয় মহাসড়ক এন৫ ও এন৭ এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। সরকারের মাস্টারপ্ল্যানে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে দুই পদ্মার তীরে। রাজবাড়ীতে শুরু হয়েছে সভা সেমিনার ও আনন্দ র‌্যালি।

পদ্মা তীরের বাসিন্দারা জানান, উভয়পারে ব্যাপক নদী ভাঙনে বিগত সময়ে নেওয়া হয়নি কার্যকর ব্যবস্থা। সেতু হলে রাজবাড়ীতে নদী শাসন হবে। স্থানীয়রা নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। সেতু বাস্তবায়নের জন্য রাজবাড়ীতে গঠিত হয়েছে পদ্মা সেতু ও ব্যারাজ বাস্তবায়ন কমিটি। কমিটিতে জেলা শাখার সভাপতি হয়েছেন সালাম তাসির এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মঞ্জুরুল আলম দুলাল। মঞ্জুরুল আলম দুলাল বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে রাজবাড়ীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ ছিল। সেতু হলে পদ্মার ওপর দিয়ে ট্রেন চলবে। রাজবাড়ী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি ইমাম-উল করিম জকি বলেন, অপার অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাতছানি দিচ্ছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু। এ সেতু নির্মিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। বিশেষ করে মোংলা বন্দর এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ সহজতর করবে। মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, যে এলাকার যোগাযোগ যত ভালো সেই এলাকা ততবেশি উন্নত। সিংগাইরের এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মানিকগঞ্জে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। আজ তিনি নেই, তবে তাঁর ঘোষণা বাস্তবায়িত হবে। পদ্মা সেতুর বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু সম্পর্কে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যার মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩২ সালের মধ্যে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া সংযোগ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights