হুথি আতঙ্কে পথ বদলালো মার্কিন রণতরী?

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশের গতিপথ নিয়ে দানা বাঁধছে নানা রহস্য। সাধারণত আমেরিকার পূর্ব উপকূল থেকে পারস্য উপসাগরে যাওয়ার জন্য ভূমধ্যসাগর এবং সুয়েজ খাল হয়ে লোহিত সাগরের সংক্ষিপ্ত পথটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এবার সেই চেনা পথ এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে বিশাল এক চক্কর দিচ্ছে এই পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী।

সম্প্রতি নামিবিয়া উপকূলের কাছে এই রণতরীটিকে দেখা গেছে। এটি উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে ভারত মহাসাগরে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পেন্টাগন এই দীর্ঘ পথ পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দিলেও সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হুমকির একটি নীরব স্বীকৃতি। লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে হুতিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী ফরমেশনও সেখানে নিজেদের পুরোপুরি নিরাপদ মনে করছে না। মাত্র ৩২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রণালীটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলের রুট হলেও হুথির বাধার মুখে এটি এখন মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, সুয়েজ খাল হয়ে গেলে যে দূরত্ব ছিল প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল, আফ্রিকার চারপাশ দিয়ে ঘুরে যাওয়ায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ থেকে ১৫ হাজার নটিক্যাল মাইলে। অর্থাৎ আগের চেয়ে অন্তত দেড় গুণ বেশি পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে এই রণতরীকে।

উল্লেখ্য, এই বিশাল বহরটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের সাথে যোগ দিতে যাচ্ছে। তবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী কেন সরাসরি সংঘাতের পথ এড়িয়ে দীর্ঘ পথ বেছে নিল, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights