ভারতে ফল পাকানো হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিকে, কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক
ভারতের কৃত্রিমভাবে ফল পাকানোর এক ধরনের হিড়িক পড়েছে। আম ও কলাসহ হরেক রকমের ফল আগেভাগেই পাকাতে ব্যবহৃত হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক। গ্রাহকদের বিপুল চাহিদাকে পুঁজি করে এমন উপায়ের আশ্রয় নিয়েছে একদল অসাধু ব্যবসায়ী।
পরিস্থিতি আমলে নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা এফএসএসএআই (এফএসএসএআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে ফল পাকাবে তাদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদসহ বিভিন্ন শহরে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সংস্থাটি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সমস্ত খাদ্য নিরাপত্তা কমিশনার এবং আঞ্চলিক পরিচালকদের বাজার ও হিমাগারগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে।
তদন্তে দেখা গেছে, অনেক ব্যবসায়ী কলা ও অন্যান্য ফল দ্রুত পাকানোর জন্য সরাসরি ‘ইথেফোন’ নামক দ্রবণে ফল ডুবিয়ে রাখছেন। এছাড়া গুঁড়ো বা তরল আকারের ইথিলিন সরাসরি ফলের সংস্পর্শে আনা হচ্ছে, যা আইনত দণ্ডনীয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, ফলের সঙ্গে রাসায়নিকের সরাসরি সংস্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ফল পাকানোর গুদামগুলোতে বিষাক্ত অ্যাসিটিলিন গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করতে কর্মকর্তাদের বিশেষ ‘স্ট্রিপ পেপার’ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই আর্দ্র স্ট্রিপটি সন্দেহভাজন ফল থেকে নির্গত গ্যাস পরীক্ষা করে বলে দেবে সেটি কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে কি না।
এফএসএসএআই বলছে, ফল পাকানোর জন্য বহুল ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম কার্বাইড মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর প্রভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস ও খাবার গিলতে সমস্যা হতে পারে। বমি বমি ভাব ও ত্বকে জ্বালা অনুভূত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে পাকস্থলীতে আলসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চলতি মাসের শুরুতেই হায়দ্রাবাদে আম পাকাতে ‘ডায়মন্ড রাইপ ইথিলিন রাইপার’ ব্যবহার করায় এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া দিল্লি, উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানায় অভিযান পরিচালনা করে শুধু বিষাক্ত ফলই নয়; ভেজাল ভোজ্য তেল, নকল কফি ও নিম্নমানের ওষুধও জব্দ করা হয়েছে।
এফএসএসএআই ভোক্তাদের অনুরোধ করেছে, তারা যেন কেনাকাটার সময় ফলের অস্বাভাবিক রঙ বা উজ্জ্বলতার বিষয়ে সতর্ক থাকেন। কৃত্রিম রঙ বা অননুমোদিত প্রলেপ দেওয়া ফল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: খালিজ টাইমস
