ডট আর ড্যাশের ভাষা, যেভাবে বদলে দিল বিশ্ব যোগাযোগ
অনলাইন ডেস্ক
ডট আর ড্যাশের ছোট ছোট সংকেত, অথচ প্রভাব বিশাল। আজ ২৭ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে মরস কোড দিবস। এক সময় দূরবর্তী যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ছিল এই সংকেতভিত্তিক ভাষা, যা প্রযুক্তির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল।
১৮৩৬ সালে স্যামুয়েল এফ বি মরস তার সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। মূলত টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান সহজ করতে তৈরি করা হয় মরস কোড। এতে দুটি ভিন্ন দৈর্ঘ্যের সংকেত ব্যবহার করা হয়, যেগুলো ডট ও ড্যাশ নামে পরিচিত। এই সংকেতের নির্দিষ্ট বিন্যাসে গঠিত হয় বর্ণমালা, সংখ্যা ও বিভিন্ন চিহ্ন।
ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অক্ষর E হওয়ায় এর সংকেত সবচেয়ে ছোট, মাত্র একটি ডট। অন্যদিকে কম ব্যবহৃত অক্ষরের সংকেত তুলনামূলক বড়। ফলে বার্তা দ্রুত পাঠানো সম্ভব হতো।
রেডিও আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল এই মরস কোড। পরবর্তীতেও দুর্বল সংকেতের মধ্যেও বার্তা পাঠাতে সক্ষম হওয়ায় রেডিও যোগাযোগে এটি ব্যবহৃত হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে গোপন বার্তা পাঠানো, জরুরি পরিস্থিতিতে সাহায্য চাওয়া—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এই পদ্ধতি।
শুধু যুদ্ধ নয়, সিনেমা, সাহিত্য এমনকি বাস্তব জীবনেও নানা সৃজনশীলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মরস কোড। আলো জ্বালানো নিভানো, আয়নার প্রতিফলন, এমনকি টোকা দিয়েও বার্তা পাঠানো সম্ভব এই পদ্ধতিতে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে প্রযুক্তির যুগে মোবাইল ও ইন্টারনেট থাকলেও মরস কোডের গুরুত্ব একেবারে হারিয়ে যায়নি। বিমান চলাচল, অপেশাদার রেডিওসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো এর ব্যবহার রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সহজ কিন্তু কার্যকর এই সংকেতভিত্তিক ভাষা শেখা আজও প্রাসঙ্গিক। এটি শুধু ইতিহাস নয়, বিকল্প যোগাযোগ পদ্ধতি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
মরস কোড দিবসে অনেকেই নতুন করে এই ভাষা শেখার আগ্রহ দেখান। নিজের নাম বা ছোট বার্তা ডট আর ড্যাশে রূপান্তর করে যোগাযোগের ভিন্ন অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: ডে’স অফ দ্যা ইয়ার
