সোমালিয়া উপকূলে ফের জলদস্যু তৎপরতা, একের পর এক জাহাজ জিম্মি

অনলাইন ডেস্ক
ভারত মহাসাগরের সোমালিয়া উপকূলে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে জলদস্যু তৎপরতা। একের পর এক জাহাজ টার্গেট হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ একটি কার্গো জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনার পর হুমকির মাত্রা বাড়িয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায়, রবিবার অজ্ঞাত ব্যক্তিরা একটি জাহাজ দখল করে সেটিকে সোমালিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার দিকে ঘুরিয়ে নেয়। এ ঘটনার পর অঞ্চলটিতে হুমকির মাত্রা ‘সাবস্ট্যানশিয়াল’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত এক সপ্তাহেই অন্তত চারটি জাহাজ জলদস্যুদের টার্গেটে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি মাছ ধরার নৌকা ও একটি তেলবাহী ট্যাংকার। আবহাওয়া ছোট নৌযান পরিচালনার জন্য অনুকূল থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।

গারাকাদ উপকূল থেকে ছয় নটিক্যাল মাইল দূরে সর্বশেষ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ২১ এপ্রিল উত্তর সোমালিয়ার মারেয়ো উপকূলেও আরেকটি জাহাজ দখলের ঘটনা ঘটে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

২২ এপ্রিল সোমালিয়া উপকূলের কাছে ‘অনার ২৫’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকার ছিনতাই হয়। জাহাজটিতে পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমারের মোট ১৭ জন নাবিক ছিলেন। পরে জাহাজটি সোমালিয়া উপকূলের কাছে নোঙর করে রাখা হয়।

এদিকে সোমালি পতাকাবাহী একটি মাছ ধরার নৌকাও দখল করার খবর পাওয়া গেছে। একই দিনে একটি কার্গো জাহাজে ছোট নৌকা থেকে ওঠার চেষ্টা করে সশস্ত্র ব্যক্তিরা। তবে জাহাজের ক্রুরা সতর্কতামূলক গুলি ছুড়লে তারা সরে যায়।

২০০৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে সোমালিয়া উপকূলের জলদস্যুরা জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, এ সময় তারা ৩৩৯ থেকে ৪১৩ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় করে।

এক সময় প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই জলদস্যু তৎপরতা গত তিন বছরে আবারও ফিরে এসেছে। নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights