ঢাবি ছাত্রীর মৃত্যু: শিক্ষক সুদীপকে অব্যাহতি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মৃত্যুকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে সব ধরনের একাডেমিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সনের এমএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে বিভাগ গভীর শোক প্রকাশ করেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করে এবং আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ একাডেমিক কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ড. সুদীপ চক্রবর্তী কোনো ক্লাস, পরীক্ষা বা একাডেমিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে পারবেন না।

গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকায় নিজ বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মিমোর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এতে কয়েকজন শিক্ষকও সংহতি প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে বিভাগের শিক্ষার্থী আনিয়া আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগে শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক ও ব্যক্তিগত নিপীড়নের অভিযোগ ছিল, মিমোর মৃত্যু তারই মর্মান্তিক পরিণতি। তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে বিভাগ একাত্ম রয়েছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ উপাচার্যকে অবহিত করা হয়েছে এবং বিভাগ থেকে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ, মিমোর পরিবারের আইনি সহায়তার ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয়ের বহন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং চূড়ান্ত বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights