টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নাসিরনগরে তলিয়ে গেছে হাজার বিঘা বোরো ধান

মোশাররফ হোসেন বেলাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

কয়েক দিনের টানা প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হাওরাঞ্চলে প্রায় এক হাজার বিঘা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি আরও বাড়তে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার বিঘা পাকা ধান পানির নিচে চলে গেছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। আগামী দুই থেকে তিনদিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও চার থেকে পাঁচ হাজার বিঘা জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বর্গাচাষি ও ঋণগ্রস্ত কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, নাসিরনগরে প্রায় ৫১ হাজার কৃষক রয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলে আবাদ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ধান কাটা হলেও বাকি ৪০ শতাংশ জমির ধান এখনো মাঠে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেদিনীর হাওরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাকা ধানের শীষ পানির নিচে তলিয়ে আছে। কোথাও কোথাও কেবল শীষের মাথা ভেসে আছে। পানির স্রোতে দুলছে তলিয়ে যাওয়া ধানগাছ।

কিছু কৃষক কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। তবে ভেজা অবস্থায় ধান কাটা ও সংরক্ষণ—দুটিই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জয়নাল খান বলেন, আর দুই দিন সময় পাইলেই ধান ঘরে তুলতে পারতাম। এখন সব শেষ। ঋণ কেমনে শোধ করমু বুঝতাছি না।

প্রবীণ কৃষক হাসান মিয়া বলেন, এই সময় হাওরে পানি আসার কথা না। আগে কখনো এমন দেখি নাই।

অন্যদিকে কৃষক প্রাণ গোপাল দাস বলেন, লাখ টাকা ঋণ কইরা চাষ করছি। সাত বিঘা জমির ধান পানির নিচে। কিস্তি দিতে না পারলে ঘর-বাড়ি বেচতে হইব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান সাকিল বলেন, টানা বৃষ্টিতে হাওরের পানি বেড়ে পাকা ধান তলিয়ে গেছে। পানি দ্রুত নেমে গেলে কিছু ধান উদ্ধার করা সম্ভব হবে। তবে পানি না কমলে ক্ষতি আরও বাড়বে।

এদিকে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে আগাম বন্যার শঙ্কার প্রভাব নাসিরনগরেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights