পানি দিতে পারছে না চট্টগ্রাম ওয়াসা

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৬০ কোটি লিটার। স্বাভাবিক সময়ে ওয়াসা দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করে। কিন্তু মাস দুয়েক ধরে বিদ্যুৎ সংকটে লোডশেডিংয়ের কারণে এখন দৈনিক উৎপাদন করা হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৬ কোটি লিটার। ফলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ কোটি লিটার পানির ঘাটতি থাকে। এখন লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে পানি উৎপাদনে।

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে এমনিতেই মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। এর মধ্যে পানির সংকটে দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মাত্রা চরম আকার ধারণ করছে। যদিও গত দুই দিন ধরে বৃষ্টি গরমে স্বস্তি দিয়েছে নগরবাসীকে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া, নদীর পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং কাপ্তাই লেকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এমনিতেই বর্তমানে পানি উৎপাদন কমে গেছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের রুলকার্ভ অনুযায়ী পানির উচ্চতা ৯৪ এমএসএল (মিনস সি লেভেল) থাকার কথা। কিন্তু গত শুক্রবার ছিল ৭৭ দশমিক ৪৭ ফুট। তা ছাড়া গত কিছুদিন ধরে হালদা নদীর ওয়াসার মোহরা পানি শোধনাগারের পানি উত্তোলন পয়েন্টে প্রতি লিটার পানিতে সর্বোচ্চ ২৯০০ মিলিগ্রাম এবং মদুনাঘাট পানি শোধনাগারের পানি উত্তোলন পয়েন্টে প্রতি লিটার পানিতে সর্বোচ্চ ১৯০২ মিলিগ্রাম লবণ পাওয়া যাচ্ছে। অথচ সাধারণ সময়ে নদীর জোয়ারের পানিতে লবণের সহনীয় মাত্রা ৫০ থেকে ৩৫০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত। এমনই সংকটের সময়ে যোগ হয়েছে অতিমাত্রার লোডশেডিং। প্রতিদিন গড়ে ১৩৪ দশমিক ৫ মেগাওয়াট থেকে ১৭২ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে ২৫টি। এর মধ্যে পাঁচটি বন্ধ। চালু থাকা কেন্দ্রগুলো সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। উৎপাদন নেমে এসেছে অর্ধেকে। সবগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ উৎপাদন সক্ষমতা ৪ হাজার ৮৯৮ মেগাওয়াট। কিন্তু গত সপ্তাহে দিনের বেলায় উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ১১৩ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ২ হাজার ৪০১ মেগাওয়াট। সে সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৫৩০ মেগাওয়াট।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর কমে যাওয়া ও নদীর পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধিতে এমনিতেই পানি উৎপাদন কমছে। কর্ণফুলী ও হালদা নদীর পানির স্তর ৪ ফুটের মতো কমেছে। এখন যোগ হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। ফলে পানি তুলে তা পরিশোধন কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৫ কোটি লিটার পর্যন্ত পানি কম উৎপাদন হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকট জাতীয় সমস্যা। আমাদের করার কিছু নেই। তবু আমরা রেশনিং পদ্ধতিতে সব দিকে পানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছি। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে অথবা কাপ্তাই লেক থেকে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হলে এই লবণাক্ততা কেটে যাবে। জানা যায়, ওয়াসা বর্তমানে চারটি শোধনাগার থেকে নগরে পানি সরবরাহ করে। এর মধ্যে মধ্যে রাঙ্গুনিয়া পানি শোধনাগার-১ ও ২ প্রকল্প থেকে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার করে মোট ২৮ কোটি লিটার। মোহরা পানি শোধনাগার ও মদুনাঘাট পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি করে মোট ১৮ কোটি লিটার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights