কিশোরগঞ্জের হাওরে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি

সাইফউদ্দীন আহমেদ লেনিন, কিশোরগঞ্জ:

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কিশোরগঞ্জের হাওরে তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক ফসলি জমি। বুক ভরা আশা নিয়ে যে বোরো ফসল চাষ করেছিলেন কৃষকেরা, এখন সেটা হতাশায় পরিণত হয়েছে। অনেক কৃষকের আবাদ করা সব জমির ধানই নষ্ট হয়ে গেছে। যে ধান কয়েক দিনের মধ্যেই ঘরে তোলার কথা ছিল, তা এখন পানির নিচে। শনিবার পর্যন্ত জেলায় ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।

হাওরে কোমর সমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন কেউ কেউ। টানা বৃষ্টির কারণে তাতেও ব্যাঘাত ঘটছে। অনেকেই আশা ছেড়ে দিয়েছেন। পানির কারণে প্রয়োজনীয় শ্রমিকও মিলছেনা। কোথাও শ্রমিক পাওয়া গেলে দিতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি মজুরি।

কিশোরগঞ্জে শনিবার সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৪ মিলিমিটার এবং বিকাল ৩টা পর্যন্ত ১৩ মিলিমিটার। কিশোরগঞ্জের নিকলী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মাসুম এ তথ্য জানিয়েছেন। থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুদপুর গ্রামের কৃষক মজিবুর রহমান জানান, তিনি ৩০ একর জমি চাষ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত তার ৬ একর জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। শান্তিপুর গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদীনের দেড় একর, আজমানের এক একর, নিয়াজ উদ্দিনের এক একর, সুফি মিয়ার ৭৫ শতাংশ জমির ধান পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু জানান, তার ৮ একর জমির পুরোটাই তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, অষ্টগ্রাম সদরের নয়াবন্দ, কাইক্কার পাড়, কাইসনা ও বল্লী হাওরের সব জমি তলিয়ে গেছে।

ইটনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড়হাটি গ্রামের কৃষক আবু বকর সিদ্দিক জানান, আলালের হাওরে অন্যের পাঁচ একর জমি বর্গা নিয়ে বোরো আবাদ করেছিলেন। পানিতে পুরো জমিই তলিয়ে গেছে।

কৃষকেরা জানান, জমিতে পানি জমে থাকায় হার্ভেস্টার কিংবা ধান কাটার অন্য যন্ত্র ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ফলে বাড়তি খরচে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান জানান, শনিবার পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর। যত সময় যাচ্ছে আরো তলিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট ফজলুর রহমান আজ শনিবার হাওর এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্টদেরকে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ এবং প্রধানমন্ত্রীঘোষিত ক্ষতিগ্রস্তদেরকে তিন মাস সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights