টিকটকে প্রেম, অতঃপর বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে দুই সন্তানের জননীর অবস্থান
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
টিকটকে পরিচয় হয়ে প্রেমের সম্পর্ক করে দুই ধর্মের দুজন সংসারও করে। সবশেষ বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ওই নারীর অবস্থান করা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নেত্রকোনার দুর্গাপুরের কাকৈরগড়া ইউনিয়নের পূর্ব কাকৈরগড়া গ্রামের অশিত চক্রবর্তীর ছেলে অন্তু চক্রবর্তীর সঙ্গে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করছেন মিতু আক্তার নামের ওই নারী।
মিতু আক্তার ফরিদপুরের রাজবাড়ির লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দুই সন্তানের জননী।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাটি দেখতে এলাকায় ছুটে যান। সেখানে গেলে ওই বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ করেন তারা। গত বৃহস্পতিবার থেকেই ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন মিতু আক্তার।
তিনি জানান, ২০২২ সালে টিকটকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরে কথাবার্তার একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় অন্তু চক্রবর্তী সাভারের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ২০২৪ সালে মিতু আক্তার সেখানে গেলে তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। মিতু জানান, তার আগের একটি সংসার ছিল। সেখানে এক ছেলে ও এক মেয়েসন্তান রয়েছে। তবে প্রেমের টানে তিনি অন্তুর কাছে চলে আসেন।
তার দাবি, অন্তু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে তার আগের বিয়ের বিষয়টি অন্তুর এক বান্ধবীর মাধ্যমে জানাজানি হলে তাদের মধ্যে দূরত্ব ও বিরোধ তৈরি হয়।
মিতু আক্তার বলেন, আমি তাকে আগেই বলেছিলাম আমার স্বামী-সন্তান আছে। তখন সে বলেছিল, এসব তার সমস্যা না। আমার ১০টা বা ২০টা সন্তান থাকলেও সে আমাকে নিয়েই থাকবে। সে কখনো আমার ধর্ম নিয়েও আপত্তি করেনি। আমি নামাজ পড়তাম, কোরআন পড়তাম, সেও শুনত। আমার টিকটক ও ইমু আইডিতেও ‘মিতু আক্তার’ নামই ছিল। এই নাম কি হিন্দুর হতে পারে? তিনি আরও বলেন, আমি এখন তার বাড়িতে এসেছি। সে আমাকে বিয়ে না করলে আমি মরে যাব।
এদিকে অন্তু চক্রবর্তী জানান, তিনি আগে জানতেন না মিতু আক্তার মুসলিম ও বিবাহিত। তিনি বলেন, হিন্দু পরিচয়ে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়েছিল। পরে জানতে পারি সে বিবাহিত এবং তার সন্তানও আছে। এসব জানার পর আমি সম্পর্ক থেকে সরে আসি। এখন সে বাড়িতে এসে বিয়ের দাবি করছে। কিন্তু আমি তাকে বিয়ে করব না। সে মুসলিম, আমি হিন্দু। আগের স্বামী-সন্তান ছেড়ে আসতে পারা নারী আমাকেও ছেড়ে যেতে পারে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, আমরা খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ পাঠিয়েছি। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এখানে কারও পক্ষে বা বিপক্ষে থাকার সুযোগ নেই।
