অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত মাঠে ফেরা ছিল ‘বড় ভুল’: রশিদ খান

অনলাইন ডেস্ক
গতবছর পিঠের অস্ত্রোপচারের পর খুব দ্রুত মাঠে ফেরার সিদ্ধান্তকে ‘বড় ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তানের তারকা লেগস্পিনার রশিদ খান। তবে সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আবারও নিজের ভয়ংকর রূপে ফিরেছেন তিনি।

আইপিএল ২০২৬-এ গুজরাট টাইটান্সের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে চলা রশিদ সর্বশেষ রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের ৭৭ রানের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

গত মৌসুমটা রশিদের জন্য ছিল হতাশার। আইপিএল ২০২৫-এ ১৫ ম্যাচে মাত্র ৯ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তবে এবার ১১ ম্যাচে ইতোমধ্যেই তুলে নিয়েছেন ১৫ উইকেট। নিজের ছন্দে ফেরার পেছনের গল্প বলতে গিয়ে রশিদ বলেন, অস্ত্রোপচারের পর খুব দ্রুত মাঠে নামা ঠিক হয়নি।

তিনি বলেন, “যখন আমার অস্ত্রোপচার হয়েছিল, তখন মাত্র দুই মাসের মধ্যেই আমি মাঠে ফিরে এসেছিলাম। এটা আমি খুব তাড়াহুড়ো করে করেছিলাম। এখন মনে হয়, এত দ্রুত মাঠে ফেরাটা ছিল আমার ‘বড় ভুল’। কিন্তু আফগানিস্তানের হয়ে খেলতে আমাকে ফিরতেই হয়েছিল এবং সেই ম্যাচগুলো খেলতে হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “গত বছরের আইপিএল শেষ হওয়ার পর আমি পুরো দুই-তিন মাস বিশ্রামে ছিলাম। এরপর নিজের ফিটনেস এবং বিশেষ করে পিঠের ওপর অনেক কাজ করেছি। আমি মনে করি, বল করার সময় যে ছন্দে আমি ক্রিজ ব্যবহার করি, সেটা আগেরবার হারিয়ে ফেলেছিলাম। পরে আবার অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার মাধ্যমে সেই ছন্দ ফিরে পাই। এরপর আমি একটি ভালো ১০০ বলের প্রতিযোগিতাও খেলেছি এবং সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে গেছি।”

জয়পুরে রাজস্থানের বিপক্ষে সেই আত্মবিশ্বাসী রশিদকেই দেখা গেছে। সপ্তম ওভারে বল হাতে নেওয়ার সময় রাজস্থান ৮৬ রান তুলে ফেলেছিল ১২.২৮ রানরেটে। কিন্তু রশিদের স্পেলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। নিজের প্রথম ওভারেই ধ্রুব জুরেল ও ডোনোভান ফেরেইরাকে বোল্ড করে রাজস্থানের রানতাড়াকে ধাক্কা দেন তিনি।

উইকেট সম্পর্কে রশিদ বলেন, “প্রথম বল করার পরই বুঝেছিলাম, উইকেটে আমার জন্য কিছু আছে। তবে মূল বিষয় ছিল গতির ভিন্নতা আনা। আমি চেষ্টা করেছি ধারাবাহিকভাবে সঠিক জায়গায় বল করতে এবং স্টাম্পে আক্রমণ করতে। কারণ স্টাম্পের বাইরে বল করলে ব্যাটসম্যানদের জন্য সিঙ্গেল বা বাউন্ডারি নেওয়া সহজ হয়ে যায়। আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল লেন্থের চেয়ে লাইন ঠিক রাখা এবং বল যেন তিন স্টাম্পের মধ্যেই থাকে।”

ডোনোভান ফেরেইরাকে আউট করার বলটি নিয়ে রশিদ বলেন, “আমি আগেই মাথার মধ্যে পুরো দৃশ্যটা কল্পনা করেছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, যদি সঠিক জায়গায় বল ফেলতে পারি তাহলে কিছুটা সাহায্য পাব এবং উইকেট নিতে পারব। বল হাত থেকে ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বুঝেছিলাম, এটা ঠিক জায়গাতেই যাচ্ছে।”

শেষদিকে শুভম দুবে ও রবীন্দ্র জাদেজার উইকেটও তুলে নেন রশিদ। তার ৪ উইকেটের দুর্দান্ত স্পেলেই সহজ জয় তুলে নেয় গুজরাট টাইটান্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights