বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত করে ‘শাটডাউন’ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল :

চলমান সংকট নিরসনে সিন্ডিকেট সভায় কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসায় আগামী সোমবার (১১ মে) থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে শিক্ষক সমাজ। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষক সমাজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকেও পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও এক সিন্ডিকেট সদস্য। তারা হলেন—কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রক্টর ড. মো. রাহাত হোসাইন ফয়সাল এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সিন্ডিকেট সদস্য মুহাম্মাদ তানভীর কায়ছার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক জানান, সাধারণ শিক্ষকদের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরে তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়।

প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, সিন্ডিকেট সদস্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও ডিনদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সভায় ৮ মে অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৮ মে রাত ১০টার দিকে হঠাৎ নোটিশ দিয়ে ৯ মে সকাল ১১টায় এজেন্ডাবিহীন জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়।

শিক্ষকদের অভিযোগ, ওই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী সংকট নিরসনের চেষ্টা না করে অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গভীর সংকটে ফেলেছে।

এদিকে পদত্যাগ করা প্রক্টর ড. মো. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, “বারবার অনুরোধ করার পরও উপাচার্যের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তার কার্যক্রমে শিক্ষক-কর্মকর্তারা হতাশ। তাই আমি পদত্যাগ করেছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবির জানান, প্রক্টরের পদত্যাগপত্র পাওয়া গেছে এবং তা উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে সিন্ডিকেট সদস্য মুহাম্মাদ তানভীর কায়ছারের পদত্যাগপত্র এখনো হাতে পাননি বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “সিন্ডিকেট সদস্য তানভীর কায়ছার অসুস্থ এবং চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন বলে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। আমি তাকে বলেছি, চিকিৎসা শেষে চাইলে দায়িত্বে ফিরে আসতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, “গত ৯ মে সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি প্রণয়ন করে শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। এরপরও এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ আমার বোধগম্য নয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights