ট্রাম্পের ওপর হামলা কি সাজানো নাটক?

অনলাইন ডেস্ক
গত এপ্রিলে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর যে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছিল, তাকে অনেক মার্কিন নাগরিকই ‘সাজানো নাটক’ বলে মনে করছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর জরিপ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, প্রতি চারজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে একজন বিশ্বাস করেন এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের কোনো ছক থাকতে পারে। অনলাইন সংবাদমাধ্যমের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান নিউজগার্ড এবং জরিপ সংস্থা ইউগভ-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, নাগরিকদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন এখন চরমে।

জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ২৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন এই ঘটনাটি ছিল স্রেফ একটি নাটক। বিপরীতে ৪৫ শতাংশ মানুষ একে সত্য বলে বিশ্বাস করলেও ৩২ শতাংশ নাগরিক এখনো নিশ্চিত নন আসলে কী ঘটেছিল। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে এই সন্দেহের মাত্রা সবচেয়ে বেশি; তাদের প্রতি তিনজনে একজন এই হামলাকে ভুয়া বলে মনে করছেন।

অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মাঝে এই হার তুলনামূলক কম, প্রতি আটজনে একজন। বয়সভেদেও রয়েছে মতপার্থক্য। বয়স্কদের তুলনায় ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণরা এই ঘটনাকে সাজানো মনে করার দিকে বেশি ঝুঁকেছেন।

গত সপ্তাহে এই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত বন্দুকধারী কোল টমাস অ্যালেনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর চারটি অভিযোগ আনা হলেও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব যেন পিছু ছাড়ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা তত্ত্বে দাবি করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির জনসমর্থন বাড়াতেই প্রশাসন নিজে এই নাটক সাজিয়েছে।

বোস্টন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জোয়ান ডনোভান এই পরিস্থিতিকে মার্কিন রাজনীতির ‘রিয়েলিটি শো’তে রূপান্তরের ফল হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের তীব্র আস্থাহীনতাই এমন অবিশ্বাস্য সব ধারণার জন্ম দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও ট্রাম্পকে হত্যার আরও দুটি চেষ্টা করা হয়েছিল। একবার পেনসিলভানিয়ার বাটলারের জনসভায় এবং অন্যবার ফ্লোরিডার গলফ ক্লাবে। মজার বিষয় হলো, সেই পুরনো ঘটনাগুলো নিয়েও নাগরিকদের মধ্যে সন্দেহ রয়ে গেছে। বাটলারের হামলাটিকেও প্রায় ২৪ শতাংশ উত্তরদাতা সাজানো বলে মনে করেন।

যদিও হোয়াইট হাউস এসব ষড়যন্ত্রতত্ত্বকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে যারা এমনটা ভাবছেন তাদের ‘বোকা’ বলে অভিহিত করেছে। তবুও মার্কিন রাজনীতিতে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের শেকড় যে কত গভীরে পৌঁছেছে, এই জরিপ তারই এক হতাশাজনক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights