আলোচনায় সিলেটের ‘সবুজ উইকেট’

ক্রীড়া প্রতিবেদক

চা বাগান দিয়ে ঘেরা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। স্টেডিয়ামের চারদিক সবুজ। ভারী বৃষ্টিতে প্রকৃতি যেন আরও সবুজ হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, টেস্টে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি ছোবল মারতে পারে। বৃষ্টিতে খেলা বাধাগ্রস্ত হবে। কিন্তু ভেসে যাবে না। আবহাওয়া বৃষ্টিভাবাপন্ন বলে উইকেটে ঘাস রাখার পরিকল্পনা চিফ কিউরেটর টনি হেমিংয়ের। উইকেটে ঘাস রাখার সমর্থন রয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও কোচ ফিল সিমন্সসহ টিম ম্যানেজমেন্টের। সিলেটের উইকেট বরাবরই দেশের সবচেয়ে প্রাণবন্ত। বোলার, ব্যাটার-সবাই সাফল্য পান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে প্রথমবার টেস্ট সিরিজ জিততে নাজমুল বাহিনী পরিকল্পনা কষছেন পেস অ্যাটাক দিয়ে বধ করতে। মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছে ১০৪ রানে। সিরিজের প্রথম টেস্টে টাইগাররা ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই দাপুটে খেলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানকে। ২০২৪ সালের পর এবার টানা দ্বিতীয় সিরিজ জিততে চায় টাইগাররা। ইনজুরির জন্য এই টেস্ট খেলতে পারবেন না ওপেনার সাদমান ইসলাম। তার জায়গায় ডেকে আনা হয়েছে জাকির হোসেনকে। অভিষেক হতে পারে তানজিদ তামিমের। টেস্ট ভেন্যু হিসেবে সিলেটের অভিষেক ২০১৮ সালে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টটি টাইগাররা হেরেছিল ১৫১ রানে। সর্বশেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টটি বাংলাদেশ জিতেছিল ইনিংস ও ৪৭ রানে। সব মিলিয়ে সিলেটে পাঁচ টেস্টে ২টি জিতেছে টাইগাররা এবং হেরেছে ৩টি। আয়ারল্যান্ড ছাড়া বাংলাদেশ হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডকে ২০২৩ সালে ১৫০ রানে। হেরেছে জিম্বাবুয়ে দুবার (১৫০ রান ও ৩ উইকেটে) এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩২৮ রানে। মিরপুর টেস্টে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন অধিনায়ক নাজমুল, দুই সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। গতির ঝড় তুলেছেন নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, অফ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ১০৫ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রান করে ম্যাচসেরা হন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল। উভয় ইনিংসে ৯১ ও ৫৬ রান করেন মুমিনুল। মুশফিক ৭১ ও ২২ রান করেন। প্রথম ইনিংস মরা উইকেটে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে গতির ঝড় ৪০ রানের খরচে ৫ উইকেট নেন নাহিদ। স্পিডস্টার নাহিদ আগামীকাল টেস্ট খেলতে নামবেন এপ্রিলের আইসিসিসেরা ক্রিকেটার হয়ে। ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশকে ওয়ানডে সিরিজ জেতানোর নায়ক ছিলেন নাহিদ ৮ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা হয়েছিলেন। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও ৮ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সিলেটের সবুজ উইকেটে টাইগার পেসারদের নেতৃত্ব দেবেন নাহিদ। যদিও আগের পাঁচ টেস্টের পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, শীর্ষ পাঁচ বোলিং স্পেলের চারটিই স্পিনারদের। সেরা বোলিং জিম্বাবুয়ের দীর্ঘদেহী পেসার ব্লেসিং মুঝারাবানি। তার ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সে টেস্টটি জিম্বাবুয়ে জিতেছিল ৩ উইকেটে। মুঝারাবানির বোলিং স্পেলটি ২০.২-৫-৭২-৬। বাংলাদেশের পেসারদের সেরা বোলিং নাহিদের, ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, ১৪-২-৮৭-৩। টাইগারদের সেরা বোলিং বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের। ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ী ম্যাচে বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুলের স্পেল ছিল ৩১.১-৮-৭৫-৬। অবশ্য সিলেটে ম্যাচসেরা বোলিং মিরাজের। ২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ে টেস্টে প্রথম ইনিংসে মিরাজের স্পেল ২২.১-৮-৫০-৫ এবং দ্বিতীয় ইনিংসের স্পেল ২০.২-৫-৫২-৫। সব মিলিয়ে টেস্টে মিরাজের বোলিং ছিল ১০২ রানে ১০ উইকেট।

সিলেটে দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর বাংলাদেশের, ৮ উইকেটে ৫৮৭ রানে ইনিংস ঘোষণা। ২০২৫ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিল নাজমুল বাহিনী। আগের পাঁচ টেস্টে পাঁচবার দুই শর নিচে অলআউট হয়েছে টাইগাররা। এই মাঠে ডাবল সেঞ্চুরি নেই। সেঞ্চুরি ৬টি। ২টি আবার টাইগার অধিনায়ক নাজমুলের। সিলেটের উইকেটে ব্যাটারদের চেয়ে বোলারদের সাফল্য বেশি। এবারও কি এর ব্যত্যয় ঘটবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights