কিংসের হ্যাটট্রিক না কি মোহামেডানের ফেরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের ইতিহাসে কোনো ক্লাব কি পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই শিরোপা জিতেছে? না। ১৯৪৮ সালে ঘরোয়া আসরের যাত্রার পর এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। তবে আজই বসুন্ধরা কিংস এ রেকর্ড গড়তে পারে। ১৫ মে ঢাকা আবাহনীকে হারিয়ে পেশাদার লিগে ষষ্ঠ শিরোপা নিশ্চিত করেছিল বসুন্ধরা কিংস। আজ ফেডারেশন কাপ ফাইনালে জয় পেলে তারাই পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই শিরোপা জিতবে। বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনায় শিরোপা জেতার লড়াইয়ে কিংসের প্রতিপক্ষ ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান। ২০১৮-১৯ মৌসুমে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের পর কিংস প্রথম ম্যাচে খেলেছিল ফেডারেশন কাপ গ্রুপ পর্বে মোহামেডানের বিপক্ষে।

আজকের ফাইনালটি আবার দুই দলের রেকর্ড স্পর্শ করার ম্যাচ। মোহামেডান জিতলে ঢাকা আবাহনীর সমান ১২ বার চ্যাম্পিয়ন হবে। কিংস জয় পেলে হ্যাটট্রিক শিরোপার রেকর্ড স্পর্শ করবে, যা মোহামেডান ও আবাহনীর রয়েছে। কিংসের আবার নতুন রেকর্ডের হাতছানিও রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হলে স্বাধীনতার পর ঘরোয়া ফুটবলে তারাই একমাত্র দল হিসেবে দ্বিতীয়বার এক মৌসুমে তিন শিরোপা ঘরে তুলবে। চলতি মৌসুমে তারা আগেই চ্যালেঞ্জ কাপ ও লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে স্বাধীনতা কাপ, ফেডারেশন কাপ ও লিগ জিতে প্রথম ট্রেবল জিতেছিল কিংস। স্বাধীনতার প্রথম ট্রেবল জেতে মোহামেডান, এরপর শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। তবে মোহামেডানও দুবার এক মৌসুমে তিন শিরোপা জেতে। প্রথম ১৯৫৯ সালে। রেকর্ড ভাঙা বা স্পর্শ যেটাই বলা হোক, ফুটবলপ্রেমীদের মূল আগ্রহ থাকবে শিরোপা নিয়েই। আজকের ফাইনালে কে জিতবে, মোহামেডান না বসুন্ধরা কিংস? ২০২২-২৩ মৌসুমে মোহামেডান শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়। জিতলে আবাহনীর ১২ শিরোপা ছুঁয়ে ফেলবে। অন্যদিকে আগের দুই মৌসুমে শিরোপা জেতায় কিংসের সামনে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নের সুযোগ। কিংসের কাছে লিগ হেরে আবাহনী টানা চার মৌসুম ট্রফিশূন্য। ২০২২-২৩ মৌসুমে ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আবাহনী আর কোনো আসরেই চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এবারে তো গ্রুপ পর্ব খেলেই বিদায়।

ফেডারেশন কাপে কিংস ও মোহামেডানের দ্বিতীয় ফাইনাল। এর আগে ২০২৪-২৫ মৌসুমে লড়েছিল। ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় কিংস। সত্যি বলতে কি, শক্তির বিচারে ফাইনালে কিংসই ফেবারিট। চলতি মৌসুমে দুই দলের এটি পঞ্চম লড়াই। চ্যালেঞ্জ কাপ ফাইনালে ৪-১, লিগের প্রথম লেগ ২-০ ও দ্বিতীয় লেগে ২-১ গোলে জিতেছিল কিংস। ফেডারেশন কাপের গ্রুপ ম্যাচে গোলশূন্য ড্র ছিল। ডরিয়েলটন, রাকিব, ফাহিম, সোহেল রানা সিনিয়র ও সাদউদ্দিনরা লিগে যে গতিময় খেলা খেলছেন তা ধরে রাখতে পারলে মোহামেডান মনে হয় না ফাইনালে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এও ঠিক, প্রতিপক্ষ মোহামেডান বলেই স্নায়ু চাপে থাকবে কিংস। তারপর যদি মোজাফফরভ, জুয়েল মিয়া ও সৌরভ দেওয়ান জ্বলে ওঠেন; সাদা-কালোরা স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়লেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। দেখা যাক বিজয়ের হাসি কে হাসে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights