ধুলো জমা স্মৃতির পাতায় পিতার স্পর্শ সাতাশ মৌজায় এক আবেগময় দুপুর
গাজীপুর প্রতিনিধি
রাজনীতির মঞ্চে তিনি অবিচল, দেশ পরিচালনায় দৃঢ়সংকল্প। কিন্তু গাম্ভীর্যের সেই বর্ম যে এক নিমেষেই ভেঙে যেতে পারে পিতৃস্মৃতির পরম মমতায়, তার সাক্ষী হয়ে রইল গাজীপুরের সাতাশ মৌজা। ৪৬ বছর আগের এক টুকরো ইতিহাস যখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর হাতে এসে পৌঁছালো, তখন তিনি আর কেবল সরকার প্রধান নন, হয়ে উঠলেন এক ব্যাকুল পুত্র।
ঘটনাটি ছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের। অনুষ্ঠান যখন মধ্যগগনে, তখন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন একটি বিশেষ স্মারক। এটি সাধারণ কোনো উপহার ছিল না; এটি ছিল ১৯৭৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গাজীপুর সফরের একটি স্মৃতিচিহ্ন।
উপহারটি হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়েক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান। হাতের তালুতে অনুভব করতে চান ৪৬ বছর আগে বাবার রেখে যাওয়া সেই অদৃশ্য স্পর্শ। তার চোখের দৃষ্টি তখন সুদূর অতীতে-যেখানে মিশে আছে ১৯৭৮ সালের স্মৃতি আর বাবার কর্মময় জীবনের প্রতিচ্ছবি। উপস্থিত জনতা দেখলো এক অভাবনীয় দৃশ্য; রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান মানুষটি তার পিতার স্মৃতিবিজড়িত স্মারকটি পরম যত্নে ছুঁয়ে দেখছেন। এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে অনুষ্ঠানস্থলে, যেন বাতাসও সেই স্মৃতির মিছিলে শামিল হয়েছে।
কিছুক্ষণের জন্য প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। রাষ্ট্রাচারের গণ্ডি পেরিয়ে এক পুত্রের হৃদয়ের আকুতি যেন ঠিকরে বেরোচ্ছিল তার অবয়বে। এই এক টুকরো উপহার যেন তাকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল সেই শৈশব-কৈশোরে, যখন পিতার ছায়ায় বড় হচ্ছিলেন তিনি।
এমন একটি সংবেদনশীল এবং ব্যতিক্রমধর্মী উপহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসককে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বস্তুগত মূল্যের চেয়ে এই উপহারের আত্মিক মূল্য তার কাছে অপরিসীম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা জেলা প্রশাসকের এই সৃজনশীল চিন্তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। সাধারণ উপহারের ভিড়ে এমন একটি ‘টাইম মেশিন’ উপহার দেওয়া যা মানুষকে শেকড়ের কাছে নিয়ে যায়, তা সত্যিই বিরল।
গাজীপুরের সাতাশ মৌজার সেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিনটি কেবল ইটের ওপর ইট গেঁথে দালান গড়ার গল্প হয়ে রইল না; এটি হয়ে রইল পিতা আর পুত্রের মাঝে স্মৃতির এক রঙিন সেতু। উন্নয়ন আর ব্যস্ততার এই যুগেও যে বাবার স্মৃতি সন্তানের হৃদয়ে কতটা সজীব, সেই আবেগঘন বারতাই দিয়ে গেল এই দিনটি।
