স্বপ্নের বিশ্বকাপ হলেও গ্যালারিতে থাকতে পারছেন না হাইতির দর্শকরা

অনলাইন ডেস্ক

৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেল হাইতি। কিন্তু এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ঘিরে আনন্দ থাকলেও বড় এক হতাশা রয়ে গেছে সমর্থকদের মধ্যে। উচ্চ টিকিট মূল্য, যাতায়াত খরচ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক হাইতির নাগরিক মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে পারবেন না।

হাইতি ‘সি’ গ্রুপে রয়েছে। তারা ১৩ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ফক্সবোরোতে প্রথম ম্যাচ খেলবে। এরপর ১৯ জুন ফিলাডেলফিয়ায় ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে এবং ২৪ জুন আটলান্টায় খেলবে মরক্কোর বিপক্ষে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে বসবাসকারী বহু হাইতিয়ান সমর্থক আশা করেছিল, এবার তারা সরাসরি বিশ্বকাপে নিজের দেশকে সমর্থন করতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে টিকিটের দাম অনেকের নাগালের বাইরে চলে গেছে। একেকটি ম্যাচের টিকিটের দাম কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত উঠেছে, যা সাধারণ সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

স্থানীয় হাইতিয়ান বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বহুবার কম দামে বা বিনামূল্যে টিকিট দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও কোনো সমাধান মেলেনি। ফলে অনেকেই মাঠে যেতে পারছেন না।

ম্যাসাচুসেটসে প্রায় ৮৭ হাজার হাইতিয়ান বসবাস করেন। কিন্তু এক জরিপে দেখা গেছে, খুব কম মানুষই টিকিট কিনতে পেরেছেন। একজন স্থানীয় নেতা বলেন, হাইতির মানুষের জন্য ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি আবেগ ও পরিচয়ের অংশ। কিন্তু টিকিটের দাম এত বেশি যে অনেকেই এতটাকা খরচ করতে পারবে না। এ ছাড়াও পার্কিং, যাতায়াত ও পরিবহন খরচও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। শুধু স্টেডিয়ামে গাড়ি পার্কিংয়ের খরচই অনেক ক্ষেত্রে শতশত ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক হাইতিয়ানই নিজ দেশ বা অন্য দেশ থেকে এসে খেলা দেখতে পারছেন না। ফলে প্রবাসীরই এখন মূল ভরসা, কিন্তু তারাও আর্থিকভাবে চাপে রয়েছে। হাইতির একজন তরুণ ফুটবলার বলেন, নিজের দেশের বিশ্বকাপ খেলা মাঠে বসে দেখা তার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু টিকিটের দাম সেই স্বপ্নকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে।

স্থানীয় আইনপ্রণেতারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এমন ঐতিহাসিক আসরে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights